চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যাবে বার্সা?
বেনফিকাকে হারাতে পারলেই মিলবে শেষ ষোলোর টিকিট। এমন সমীকরণ জেনে মাঠে নেমেছিল স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা। কিন্তু অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েও জালের ঠিকানা খুঁজে পেল না জাভির শিষ্যরা। তারা পারল না পূর্ণ পয়েন্ট আদায় করে নিতে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি উড়তে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হওয়ায় তাদেরকে চোখ রাঙাচ্ছে বিদায়ের শঙ্কা।
মঙ্গলবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের 'ই' গ্রুপের ম্যাচে ক্যাম্প ন্যুতে বেনফিকার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে বার্সা। প্রথম দেখায় পর্তুগিজ ক্লাবটির মাঠে ৩-০ গোলে হেরেছিল তারা।
পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে জিতে ১৫ পয়েন্ট পাওয়া বায়ার্ন আগেই নিশ্চিত করেছে আসরের নকআউটে খেলা। ৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে বার্সেলোনা। তিনে থাকা বেনফিকার পয়েন্ট ৫। মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে অবস্থান করছে দিনামো কিয়েভ।
আগামী ৯ ডিসেম্বর নিজেদের শেষ ম্যাচে বায়ার্নের মাঠে খেলতে হবে বার্সাকে। জার্মান ক্লাবটি যে দারুণ ছন্দে আছে, তাতে তাদেরকে হারানো ভীষণ কঠিন হবে কাতালানদের জন্য। জয় না পেলেও অবশ্য গ্রুপ পর্বের বাধা পাড়ি দিতে পারবে বার্সা। সেক্ষেত্রে তাদেরকে তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপের অন্য ম্যাচটির দিকে। সেদিন একই সময়ে বেনফিকা নামবে কিয়েভের মাঠে।
ঘরের মাঠে বেনফিকার বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৬৬ শতাংশ সময়ে বল ছিল তাদের পায়ে। গোলমুখে ১৪টি শট নিয়ে তারা লক্ষ্যে রাখতে পারে তিনটি। অন্যদিকে, সফরকারীরাও সাতটি শটের মধ্যে তিনটি লক্ষ্যে রাখে।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে বেনফিকার গোলরক্ষকের পরীক্ষা নেন ইউসুফ দেমির। ডি-বক্সের ডানদিক থেকে তার নেওয়া কোণাকুণি শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন ওডিসিয়াস ভ্লাকোডিমোস। পাঁচ মিনিট পর আবার সুযোগ আসে বার্সেলোনার সামনে। নিকো গঞ্জালেজ ফাঁকায় খুঁজে নিয়েছিলেন রোনালদ আরাউহোকে। তবে ডি-বক্সের ভেতর থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি।
২৭তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন গাভি। ভ্লাকোডিমোস একা পেলেও গোলপোস্টের উপর দিয়ে চলে যায় তার জোরালো ভলি। কিছুক্ষণ পরই ফের হতাশ হতে হয় বার্সাকে। পাল্টা আক্রমণে নিকোর পাসে ডি-বক্সের বামদিক থেকে জর্দি আলবার শট ফিরিয়ে দেন বেনফিকার গোলরক্ষক।
৩৪তম মিনিটে বার্সার জাল অক্ষত থাকে গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের কল্যাণে। সতীর্থের কর্নার থেকে রোমান ইয়েরেমচুকের হেড পা দিয়ে আটকে দেন তিনি। পরের কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি লক্ষ্যভেদ করলেও তা বাতিল করা হয়। কারণ বল আগেই পেরিয়ে গিয়েছিল বাইলাইন।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ভাগ্যের ফেরে গোল পাওয়া হয়নি বার্সার। দেমিরের বাঁকানো শট বাধা পায় ক্রসবারে। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ জারি রাখে বার্সা।
৫৮তম মিনিটে মেম্ফিস ডিপাই ডি-বক্সে বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে গেলেও শট নিতে পারেননি। ছুটে গিয়ে বল বিপদমুক্ত করেন ওতামেন্দি। ১০ মিনিট পর বদলি উসমান দেম্বেলের ক্রসে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকান ভ্লাকোডিমোস। ৮৩তম মিনিটে আলবার ক্রসে আরাউহো বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
বার্সেলোনার চাপ সামলে শেষদিকে উল্টো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত বেনফিকা। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে হারিস সেফেরোভিচ হাতছাড়া করেন সুবর্ণ সুযোগ। চিপ করে টের স্টেগেনকে ফাঁকি দেওয়ার পর তার সামনে ছিল ফাঁকা জাল। বার্সেলোনার এক ডিফেন্ডার বাধা দিতে আসার আগেই তিনি বাঁ পায়ে শট নেন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বল চলে যায় বাইরে।