তুরস্কের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে বিশ্বকাপের আশা বাঁচিয়ে রাখল পর্তুগাল

স্পোর্টস ডেস্ক

খাদের কিনারে পড়ে কাতার বিশ্বকাপে খেলা শঙ্কায় পড়েছিল পর্তুগালের। তবে কঠিন পথ পাড়ি দিতে প্রথম পরীক্ষায় দারুণভাবে উৎরে গেল তারা। দলের সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গোল না পেলেও তুরস্কের বিপক্ষে পর্তুগাল জিতল বড় ব্যবধানে।

বৃহস্পতিবার পোর্তোয় প্লে অফের সেমিফাইনালে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ফার্নান্দো সান্তোসের দল। দলের হয়ে গোল করেন ওটাভিও এডমিলসন, ডিয়াগো জোটা এবং ম্যাথিউস নুনেস। তুরস্কের হয়ে এক গোল ফেরত দেন বুরাক ইলমাজ। তিনি অবশ্য পেনাল্টি মিস করে দলকে হতাশায়ও পুড়ান। কয়েকটি সুযোগ পেলেও এই ম্যাচে গোলবিহীন থাকতে হয়েছে রোনালদোকে।

এই জয়ে ইউরোপিয়ান অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার পথে প্লে অফের ফাইনালে উঠেছে রোনালদোরা। সেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ইতালি এগিয়ে থাকলেও তাদের স্তব্ধ করে জায়গা করে নিয়েছে উত্তর মেসিডোনিয়া আগামী মঙ্গলবার এই দুই দল বিশ্বকাপ নিশ্চিতের লড়াইয়ে নামবে। 

এদিন খেলার শুরু থেকেই আক্রমণ শানাতে থাকে পর্তুগাল। পুরো ম্যাচেও তাদেরই স্পষ্ট প্রাধান্য ছিল। ৫৯ শতাংস বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১৬ শটের ৮টি লক্ষ্যে ছিল পর্তুগালের। অন্যদিকে ১২ শটের ৫টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তুরস্ক। নবম মিনিটে প্রথম বলার মতো সুযোগ পর্তুগিজরা। ডান প্রান্ত থেকে ডিয়েগো দালোট দারুণ এক ক্রস করেছিলেন। ফাঁকায় বল পেয়েও রোনালদো মারেন অনেক উপর দিয়ে।

১১ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের নেওয়া ফ্রি কিক থেকে গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন জোটা। কিন্তু তিনি অল্পের জন্য রাখতে পারেননি লক্ষ্যে।

মিনিট চারেক পরেই আসে প্রত্যাশিত মুহূর্ত। বার্নাডো সিলভার শট বারে লেগে ফিরে এলে ফিরতি শটে জালে জড়ান ওটাভিও এডমিলসন। গোল হজম করে কিছুটা আক্রমণে নামে তুরস্ক। ২১ মিনিটে প্রথম গোলে শট নেয় তারা।

২৭ মিনিটে মেহমেত সেলিক সুযোগ তৈরির কাছে ছিলেন। তার নেওয়া বিপদজনক ক্রস দারুণ দক্ষতায় বিপদমুক্ত করেন রাফায়েল গুয়েরেইরো। খেলায় গতি আসে তুমুল। তুরস্ক বল চাপালে দ্রুতই আক্রমণে ফিরছিল পর্তুগাল।

৪২ মিনিটে তৈরি হয় তেমন পরিকল্পিত এক আক্রমণ। রোনালদো পায়ের টোকায় বল দেন জোয়াও মাটিনিয়োকে। তার কাছ থেকে বল পান ওটাভিও। দারুণ ক্রস বাড়ান জোটার উদ্দেশ্যে। নিখুঁত হেডে জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতেন লিভারপুল তারকা।

বিরতির পর আরেক গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন জোটা। বক্সের মধ্যে থতমত হয়ে হারিয়ে ফেলেন তা। খেলায় ফিরতি মরিয়া তুরস্ক নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছিল। মাঝমাঠে বল দখলে রেখে নিয়ন্ত্রণ করছিল পর্তুগাল। কিন্তু আক্রমণগুলো পূর্ণতা পাচ্ছিল না তুরস্কের বক্সের কাছে গিয়ে। 

এমন অবস্থায় বল পেয়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে খেলায় ফিরে আসে তুরস্ক। ৬৫ মিনিটে চেঙ্গিস উন্ডার পা থেকে বল পেয়ে দারুণ ক্ষিপ্র শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ইলমাজ। পরের পাঁচ মিনিটে পর্তুগালের বক্সে আরও দুবার আক্রমণে যায় তারা।

৭১  মিনিটে গোলদাতা জোটাকে তুলে জোয়াও ফেলিক্সকে নামান সান্তোস। ৭৫ মিনিটে গুয়েরেইরোর দারুণ ক্রস থেকে হেড করেছিলেন ওটাভিও। অল্পের জন্য তা যায় বক্সের বাইরে দিয়ে। ৮২ মিনিটে আসে নাটকীয় মুহূর্ত। জোসে ফন্টে উনালকে বক্সের মধ্যে ফাউল করায় ভিএআর থেকে পেনাল্টি পায় তুরস্ক। ম্যাচের সমতায় ফেরার শেষ সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ইলমাজ।

স্বস্তি ফিরে পাওয়ার পর যোগ করা সময়েও গোল পেতে পারতেন রোনালদো। ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে ফেলিক্সের বাড়িয়েছিলেন নিখুঁত এক বল। তা থেকে সময়মত পা লাগাতে পারেননি পর্তুগালের সেরা তারকা।

রোনালদো না পারলেও খানিক পর ব্যবধান বাড়ান নুনেস। রাফায়েল লিয়াওর কাছ থেকে বল পেয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। একদম অন্তিম সময়ে গিয়েও আরেকবার গোলের সুযোগ আসে রোনালদোর। এবার তাকে হতাশ করে ক্রসবার।

গোল না পেলেও কাতার বিশ্বকাপের আশা উজ্জ্বল হওয়ায় ভীষণ স্বস্তি পেতে পারেন অন্যতম সেরা এই ফুটবল তারকা।