পিএসজি-ম্যানসিটি-ম্যানইউর চেয়ে পিছিয়ে আছে বার্সা: কোমান

স্পোর্টস ডেস্ক

অতিমারি করোনাভাইরাস বদলে দিয়েছে অনেক কিছুই। বিশেষকরে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনাকে। খেলোয়াড়দের উচ্চ বেতনের চাপা পড়ে ঋণের দায় বেড়েছে দলটির। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিশেষকরে পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলগুলোর চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে কাতালানরা। রাখঢাক না রেখে সংবাদসম্মেলনে এ সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন দলের প্রধান কোচ রোনাল্ড কোমান।

চলতি মৌসুমে বড় অঙ্ক খরচ করে বেশ কিছু নামীদামী খেলোয়াড় কিনেছে সিটি ও ইউনাইটেড। অন্যদিকে ট্রান্সফারে পিএসজি অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় কিনলেও তাদের খরচও কম নয়। সেখানে খুব সামান্য পরিমাণই খরচ করতে পেরেছে বার্সেলোনা। ফ্রি ট্রান্সফারে যাদের এনেছে তাদের চুক্তি করাতেও দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছে হাত পাততে হয়েছে। জেরার্দ পিকে, সের্জিও বুসকেতস, জর্দি আলবা, সের্জি রোবার্তোর মতো সিনিয়র খেলোয়াড়রা বেতন কমানোর কারণেই সম্ভব হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়ে গেছে লিওনেল মেসিকে ধরে না রাখতে পারায়। আর মহা তারকা না থাকায় লা লিগার ছোট দলগুলোও এখন বার্সেলোনাকে ভয় পায় না। সংবাদ সম্মেলনে বেশ আক্ষেপ করেই এ কথা বলেছিলেন কোমান। নতুন করে ভালো মানের খেলোয়াড় কিনতে পারলে হয়তো নিজেদের অবস্থা ফিরে পেত দলটি। কিন্তু ওই আর্থিক ঘাটতির কারণে তাও সম্ভব নয়। সবমিলিয়ে হতাশার মধ্যেই আছেন কোমান।

গেতাফের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদসম্মেলনে কোমান বলেন, 'আপনাকে বাস্তববাদী হতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো অন্যান্য দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না আমাদের ক্লাব। যারা কেউ এই ক্লাবের ভালো চায় তারা সবাই হতাশ। কিন্তু এটা এমনই এবং আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। আপনাকে ক্লাবের ব্যাপারটি জানতে হবে।'

মেসি না থাকলেও চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার স্কোয়াড বেশ বড়। বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড় উঠে এসেছেন লা মাসিয়া থেকে। এছাড়া ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন প্রায় সব খেলোয়াড়ই। সবমিলিয়ে ৩২ জনের স্কোয়াড। সেটাও সুখকর নয় কোমানের জন্য, 'স্কোয়াডে ৩২ জন খেলোয়াড় থাকা অসম্ভব। আমি কোচিং কোর্স করেছি, কিন্তু ৩২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে নয়। ক্লাব জানে আমি কাকে চাই এবং কার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু আমি চুক্তিবদ্ধ সকল খেলোয়াড়দের সম্মান করি। প্রত্যেক খেলোয়াড় জানে যে আমাদের কারা আছে এবং কার খেলতে সমস্যা হবে।'