ফাইনালিসিমা: ইতালি-আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ নিয়ে যা যা জানা দরকার

স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এ এক দারুণ উপলক্ষ! দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আগামী জুনে মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারী ইতালি ও কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতার দুই সেরা দলকে নিয়ে আয়োজিত এক ম্যাচের এই লড়াইয়ের নাম দেওয়া হয়েছে 'ফাইনালিসিমা'।

ফাইনালিসিমা কী?

গত বছরের ডিসেম্বরে নিজেদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ইউরোপের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ও দক্ষিণ আমেরিকা শীর্ষ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল। সেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে তারা। সেটারই অংশ হিসেবে ইউরো ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে একটি ম্যাচ আয়োজিত হবে।

২০২২ সালের ফাইনালিসিমায় কারা খেলবে?

হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়বে ২০২১ কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ২০২০ ইউরোর শিরোপাধারী ইতালি।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে তাদের মাটিতে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এতে অবসান হয় তাদের ২৮ বছরের দীর্ঘ শিরোপাখরার। অন্যদিকে, ফাইনালের ভেন্যু ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে পরাস্ত করে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মাতে ইতালি। প্রতিযোগিতায় এটি তাদের দ্বিতীয় শিরোপা।

ফাইনালিসিমা কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে?

কোনো অতিরিক্ত সময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অর্থাৎ নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফল না আসলে সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে চলে যাবে দুই দল। দুই কনফেডারেশন যৌথভাবে ম্যাচের রেফারি ও অফিসিয়ালদের নির্বাচন করবে।

কবে-কোথায় মাঠে গড়াবে ফাইনালিসিমা?

২০২২ সালের ফাইনালিসিমা আয়োজিত হবে ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় অনুসারে, আগামী ২ জুন (বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটে) পরস্পরকে মোকাবিলা করবে ইতালি ও আর্জেন্টিনা।

কেন ফাইনালিসিমা আয়োজিত হচ্ছে?

উয়েফা ও কনমেবলের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ফাইনালিসিমার প্রবর্তন করা হয়েছে। তাছাড়া, দুই কনফেডারেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে নারী ফুটবল, ফুটসাল, যুব ফুটবল, রেফারি বিনিময় ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রকল্পসহ নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আপাতত ফাইনালিসিমার তিনটি সংস্করণ আয়োজনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে উয়েফা ও কনমেবল। গত বছরের শেষদিকে এক বিবৃতিতে উয়েফা বলেছিল, 'দুটি সংস্থার (উয়েফা ও কনমেবল) মধ্যে সম্পাদিত বর্তমান চুক্তি অনুসারে, সংশ্লিষ্ট মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার ম্যাচের তিনটি সংস্করণ অনুষ্ঠিত হবে।' অর্থাৎ কোপা আমেরিকা ও ইউরোর পরের দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরাও পরস্পরের মুখোমুখি হবে।

আগে কখনও মুখোমুখি হয়েছিল দুই মহাদেশের চ্যাম্পিয়নরা?

দুই কনফেডারেশনের আয়োজনে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নিজেদের মধ্যে দ্বৈরথে নামবে ইউরো ও কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়নরা। ১৯৮৫ সালে ফ্রান্স নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছিল উরুগুয়েকে। আট বছর পর আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে টাইব্রেকারে জিতেছিল ডেনমার্কের বিপক্ষে। অর্থাৎ ১-১ ব্যবধানে সমতা চলছে দুই মহাদেশের মধ্যে।