বাংলাদেশকে বিদায় করে ফাইনালে ১০ জনের শ্রীলঙ্কা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফাইনালে উঠতে কেবল ড্র করলেই চলতো বাংলাদেশের। অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল জয়ের। এমন সমীকরণে সহজেই নিজেদের কাজটা করে নিল লঙ্কানরা। অথচ অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও হেরে বিদায় নিতে হলো লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

মঙ্গলবার কলম্বোর রেসকোর্স মাঠে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ শ্রীলঙ্কার কাছে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার হয়ে গোলদুটি করেছেন জার্মান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় আহমেদ ওয়াসিম রাজেক। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন জুয়েল রানা।

এদিন গোল করার মতো বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। পেনাল্টিও মিস করেন। তিনবার তো ফাঁকা পোস্টেও বল জালে পাঠাতে পারেননি। মূলত ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় হারতে হয় তাদের। তবে অসাধারণ খেলেছেন লঙ্কান গোলরক্ষক সুজান পেরেরাও। বাংলাদেশের একের পর এক আক্রমণ ঠেকান তিনি।

উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখা বাংলাদেশ শুরুতেই গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে। তৃতীয় মিনিটে রহমত মিয়ার লম্বা থ্রোইন থেকে তপু বর্মনের নেওয়া হেডে জোর না থাকায় সহজেই ধরে ফেলেন লঙ্কান গোলরক্ষক সুজান পেরেরা। তবে এর দুই মিনিট পর পিছিয়ে পড়তে বাংলাদেশ। সতীর্থের কাটব্যাক থেকে ফাঁকায় থেকে সাসাঙ্গা দিলহারার নেওয়া শট রহমত মিয়া ব্লক করলে বেঁচে যায় তারা।

২৩তম মিনিটে দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে দারুণ শট নিয়েছিলেন দিলহারা। কিন্তু অল্পের জন্য লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। তবে দুই মিনিট পরই গোল আদায় করে নেয় দলটি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক শট নিয়েছিলেন এক লঙ্কান। ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়েছিলেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। তবে আলগা বল স্লাইড করে লক্ষ্যভেদ করেন ওয়াসিম।

৩২তম মিনিটে জামালের কর্নারে তপুর হেড লক্ষ্যের দিকেই যাচ্ছিল। একেবারে গোললাইন থেকে হাত দিয়ে ফেরান ডাকসন পুসলাস। তাতে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। কিন্তু স্পটকিক বারপোস্টের উপর দিয়ে মেরে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন তপু।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে গোলরক্ষককে একা পেয়ে রাকিব হোসেন। ফাঁকায় থেকে নিজে শট নিয়ে সতীর্থকে পাস দিয়ে নষ্ট করেন সে সুযোগ। পরের মিনিটে গোল পেতে পারতো বাংলাদেশ। জামালের কর্নার থেকে মোহাম্মদ হৃদয়ের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান লঙ্কান গোলরক্ষক সুজান। আলগা ফাঁকায় পেয়ে যান সুশান্ত ত্রিপুরা। কিন্তু উড়িয়ে মেরে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন।

সমতায় ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। ৫০তম মিনিটে জামালের কর্নার থেকে ইয়াসিন আরাফাতের হেডে প্রায় গোল পেয়েও গিয়েছিল দলটি। কিন্তু একেবারে

৫০তম মিনিটে কর্নার থেকে একেবারে গোললাইন থেকে ঠেকান লঙ্কান ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান

চার মিনিট পর সতীর্থের থ্রু পাসে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান তিনি। কিন্তু দুরূহ কোণে গিয়ে বাইরে শট মেরে নষ্ট করেন সে সুযোগ।

৬১তম মিনিটে অবিশ্বাস্য এক মিস করেন তপু। কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলায় ফাঁকায় বল পেয়ে যান এ ডিফেন্ডার। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে মারলেন উড়িয়ে। ১০ মিনিট পর কাঙ্ক্ষিত গোল পায় বাংলাদেশ। ইয়াসিন আরাফাতের ক্রস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান জুয়েল রানা। আলতো টোকায় বল জালে পাঠান এ ফরোয়ার্ড।

৮০তম মিনিটে জামাল ভুঁইয়ার দূরপাল্লার শট জালেই দিকেই যাচ্ছিল। শেষ মুহূর্তে লাফিয়ে ঠেকান সুজান। পরের মিনিটে ফাহাদের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। ৮৪তম মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে আবার গোলরক্ষককে পান জুয়েল রানা। আলতো চিপে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে পাঠাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঠিকভাবে করতে পারেননি। দারুণ দক্ষতায় ঠেকান লঙ্কান গোলরক্ষক। 

৯০তম মিনিটে বক্সে বল সাদউদ্দিনের হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় শ্রীলঙ্কা। সফল স্পটকিকে দকে এগিয়ে দেন রাজিক। যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু লাভ হয়নি। জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতে শ্রীলঙ্কা।