মুলারকে ছাড়িয়ে রোনালদোর পাশে লেভানদভস্কি, মেসি ধরাছোঁয়ার বাইরেই

স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যাচের তখন ৮৭তম মিনিটের খেলা চলছে। তরুণ জার্মান ফরোয়ার্ড জামাল মুসিয়ালার কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত ভলিতে জাল খুঁজে নিলেন রবার্ত লেভানদভস্কি। ভলফসবুর্গের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন দুই কীর্তি গড়লেন বায়ার্ন মিউনিখের এই পোলিশ স্ট্রাইকার।

শুক্রবার রাতে জার্মান বুন্দেসলিগায় ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতেছে আসরের শিরোপাধারীরা। প্রথমার্ধে থমাস মুলার স্বাগতিকদের এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে নিশানা ভেদ করেন দায়োত উপামেকানো ও লেরয় সানে। আর শেষদিকে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পান ফর্মের তুঙ্গে থাকা লেভানদভস্কি।

এই এক গোলেই সাবেক জার্মান কিংবদন্তি জার্ড মুলারের রেকর্ড ভেঙেছেন লেভানদভস্কি। পাশাপাশি তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে। তবে সময়ের আরেক সেরা তারকা আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরেই।

মুলারের রেকর্ড টিকে ছিল ৪৯ বছর। ১৯৭২ সালে তিনি বায়ার্নের হয়ে করেছিলেন ৪২ গোল। বুন্দেসলিগায় এক পঞ্জিকা বর্ষে এতদিন সেটাই ছিল সবচেয়ে বেশি গোলের কীর্তি। ভলফসবুর্গের বিপক্ষে লক্ষ্যভেদ করে লেভানদভস্কি ছাড়িয়ে গেছেন মুলারকে। চলতি বছর জার্মানির শীর্ষ লিগে তিনি করেছেন ৪৩ গোল।

গোলের হিসাবে ক্যারিয়ারের সেরা বছর রোনালদো কাটিয়েছিলেন ২০১৩ সালে। সেবার রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি করেছিলেন ৬৯ গোল। সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন লেভানদভস্কি। তিনিও চলতি বছর করেছেন মোট ৬৯ গোল।

ভলফসবুর্গের বিপক্ষে লড়াইটিই ছিল ২০২১ সালে বায়ার্নের শেষ ম্যাচ। তাই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড রোনালদোকে টপকে যাওয়া হচ্ছে না লেভানদভস্কির। আর এত গোলের পরও তিনি পৌঁছাতে পারেননি পিএসজি ফরোয়ার্ড মেসির ধারেকাছে। এক পঞ্জিকা বর্ষে সবচেয়ে বেশি গোলের কীর্তি মেসির দখলে। ২০১২ সালে বার্সেলোনার হয়ে রেকর্ড ৯১ গোল পেয়েছিলেন তিনি।

লেভানদভস্কির জন্য স্মরণীয় রাতে বুন্দেসলিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বায়ার্ন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের চেয়ে এগিয়ে গেছে ৯ পয়েন্টে। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে দারুণভাবে ছুটছে তারা। ১৭ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪৩। এক ম্যাচ কম খেলে ডর্টমুন্ডের অর্জন ৩৪ পয়েন্ট।