রিয়াল মাদ্রিদকে উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা

স্পোর্টস ডেস্ক

চলতি মৌসুমের শুরুটা দুঃস্বপ্নের মতো ছিল বার্সেলোনার। শুরুতেই একের পর এক হোঁচটে লা লিগা থেকে এক প্রকার ছিটকে যায় দলটি। অবিশ্বাস্য কিছু না হলে রিয়াল মাদ্রিদের হাতেই উঠছে শিরোপা। অথচ সেই রিয়ালকে নিয়েই কি-না রীতিমতো ছেলেখেলা খেলল বার্সেলোনা। তাদের রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দলটি। ফরোয়ার্ডরা একের পর এক সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধানটা হতে পারতো তারও দ্বিগুণ।

রোববার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লা লিগার ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। নিজের প্রথম এল ক্লাসিকো ম্যাচ খেলতে নেমেই জোড়া গোল পেয়েছেন পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াং। একটি এসিস্টও করেছেন। এছাড়া গোল পেয়েছেন ফেরান তোরেস ও রোনালদ আরাহো। দুটি গোলের যোগানদাতা উসমান দেম্বেলে।

মূলত নতুন কোচ জাভি হার্নান্দেজের হাতে পড়ার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে বার্সেলোনা। জানুয়ারির ট্রান্সফারে নতুন কিছু খেলোয়াড় পাওয়ার পর যেন রীতিমতো উড়তে থাকে দলটি। শেষ ১১ ম্যাচ অপরাজিত থেকেই এল ক্লাসিকো ম্যাচে মাঠে নামে তারা। সে ধারা ধরে রেখে এবার রিয়ালকে তাদের মাঠেই নাস্তানুবাদ করে ছাড়ে কাতালানরা।

এদিন নিজেদের সেরা তারকা করিম বেনজেমাকে ছাড়া আক্রমণ জমাতে পারেনি রিয়াল। ম্যাচে মাঝমাঠের স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনাই। ৫৯ শতাংশ বল দখলে রেখে দারুণ কিছু আক্রমণ করে দলটি। মোট ১৮টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখে তারা। প্রথমার্ধেই ৯টি শট নেয় দলটি। যার ৫টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ১৪টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে রিয়াল।

অবশ্য গোল করার মতো প্রথম সুযোগ অবশ্য পায় রিয়ালই। পঞ্চম মিনিটে ফেদেরিকো ভালভার্দের পাস থেকে রদ্রিগোর শট ছিল অনেক বাইরে। তবে দুই মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাটব্যাক থেকে ভালো সুযোগ ছিল ভালভার্দের। ভালো শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু তার কোণাকোণি শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান বার্সা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।

দ্বাদশ মিনিটে গোল করার মতো প্রথম সুযোগ পায় বার্সেলোনা। সুবর্ণ এক সুযোগ নষ্ট করেন অবামেয়াং। নিজেদের অর্ধ থেকে সতীর্থের বাড়ানোর থ্রু পাস পেয়ে এ গ্যাবন তারকাকে দারুণ এক কাটব্যাক করেন ফেরান তোরেস। একেবারে ফাঁকায় গোলরক্ষককে একা পেয়েও বুদ্ধিদীপ্ত শট নিতে পারেননি অবামেয়াং। গোলরক্ষক বরাবর শট নিলে সহজেই ঠেকান কোর্তুয়া। ফিরতি বলে ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ংয়ের পা ঘুরে সুযোগ ছিল দেম্বেলেরও। তার শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান রিয়াল গোলরক্ষক।

অষ্টাদশ মিনিটে দেম্বেলের ক্রস থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার দারুণ এক শট নিয়েছিলেন তোরেস। তবে অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। ছয় মিনিট পর পেদ্রির নিখুঁত এক চিপে একেবারে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন তোরেস। তবে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে দেরি করায় দারুণ ট্যাকলে সে যাত্রা দলকে রক্ষা করেন কাসেমিরো।

২৯তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় বার্সেলোনা। ডান প্রান্তে সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ এক ক্রস করেন দেম্বেলে। নিখুঁত হেডে বলের দিক বদলে জালে পাঠান অবামেয়াং। ৩৫তম মিনিটে ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ংয়ের পাস থেকে অবামেয়াংয়ের কোণাকোণি শট কোর্তুয়া না ঠেকাতে পারলে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো।

পাল্টা আক্রমণে সুযোগ ছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রেরও। পেদ্রির ব্যাকপাস একেবারে ফাঁকায় গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান এ ব্রাজিলিয়ান। কিন্তু শট না নিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেনাল্টি আদায় করে নিতে চাওয়ায় ভুলটা করে ফেলেন। সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।

উল্টো পরের মিনিটে আরও একটি গোল হজম করে রিয়াল। দেম্বেলের নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ফাঁকায় লাফিয়ে দারুণ এক হেডে স্কোরলাইন ২-০ করেন আরাহো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে জর্দি আলবার ক্রসে অবামেয়াং নাগাল পেলে ব্যবধানটা বড় হতে পারতো আরও।

তবে বিরতির পরপরই ব্যবধান বাড়ায় বার্সা। ডি ইয়ংয়ের কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ এক ব্যাক হিলে তোরেসকে পাস দেন অবামেয়াং। ফাঁকায় বল পেয়ে এবার আর জালে বল পাঠাতে ভুল হয়নি তার। অথচ এর ঠিক মিনিট খানেক আগেই অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে ডি ইয়ংয়ের পাসে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সময়ও পেয়েছিলেন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে মারেন বাইরে।

৫১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পেয়ে যান অবামেয়াং। পিকের বাড়ানো বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অবামেয়াংকে দেন তোরেস। বল ধরে আলতো চিপে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এ গ্যাবন ফরোয়ার্ড। লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তুললেও ভিএআরে চেক করে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি।

৫৮ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করার সুবর্ণ এক সুযোগ নষ্ট করেন অবামেয়াং। সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে গোলমুখে ফাঁকায় থাকা এ ফরোয়ার্ডকে বল বাড়ান তোরেস। কিন্তু বলে ঠিকভাবে সংযোগ করতে না পাড়ায় নষ্ট হয় সে সুযোগ। দুই মিনিট পর ভালো সুযোগ ছিল রিয়ালেরও। কিন্তু তার দুর্বল শট ধরতে কোনো সমস্যা হয়নি টের স্টেগেনের।

৬৪তম মিনিটে দুর্দান্ত এক সেভ করেন কোর্তুয়া। সের্জিও বুসকেতসের থ্রু পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন তোরেস। তবে ঝাঁপিয়ে তার শট ঠেকান রিয়াল গোলরক্ষক। ১০ মিনিট পর আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন দেম্বেলে। সতীর্থের বাড়ানো বলে এদের মিলিতাওর সঙ্গে লড়াইয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন এ ফরাসি। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে মারেন বাইরে

এর তিন মিনিট পর আরও একবার রিয়ালকে রক্ষা করেন কোর্তুয়া। বদলি খেলোয়াড় মেমফিস ডিপাইয়ের শট ঠেকান তিনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে সুযোগ ছিল রিয়ালেরও। তবে ডেভিড আলাবার শট পা দিয়ে ঠেকান টের স্টেগেন। ৮৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ভালভার্দের প্রচেষ্টা লক্ষ্যে থাকেনি। দুই মিনিট পর ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন বদলি খেলোয়াড় লুকাস ভাসকেস। কিন্তু তার শটও লক্ষ্যে থাকেনি।

এ জয়ে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে এলো বার্সেলোনা। যদিও দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ৫৪। তবে এক ম্যাচ বেশি খেলেছে অ্যাতলেতিকো। গোল ব্যবধানে এগিয়ে আছে বার্সা। শীর্ষে থাকা রিয়ালের সংগ্রহ ২৯ ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট।