সান মারিনোকে ১০ গোলের মালা পরিয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

কোনো ভাবে ড্র করলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে যেত ইংল্যান্ডের। সেখানে সান মারিনোকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা খেলেছে দলটি। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকা দলটির বিপক্ষে গোল উৎসবে মেতে ওঠে ইংলিশরা। বড় জয়েই কাতার বিশ্বকাপের টিকেট কাটে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা।

সেরাভাল্লেতে সোমবার রাতে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে 'আই' গ্রুপের ম্যাচে সান মারিনোকে ১০-০ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক তুলে নেওয়ার পর এদিন দলের হয়ে একাই চারটি গোল করেছেন হ্যারি কেইন। এছাড়া হ্যারি মাগুইর, এমিল স্মিথ-রোয়ে, টাইরন মিঙ্গস, ট্যামি আব্রাহাম ও বুকায়ো সাকা একটি করে গোল করেন। অপর গোলটি আসে আত্মঘাতী থেকে।

ঠিক এর আগের ম্যাচেই আলবেনিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন কেইন। ইংল্যান্ডের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন এ টটেনহ্যাম হটস্পার্স ফরোয়ার্ড। এর আগে ১৯০৯ সালে ভিভিয়ান উডওয়ার্ড, ১৯২৭ সালে ডিস্কি ডিন ও ১৯৫৭ সালে টমি টেইলর এই কীর্তি গড়েছিলেন।

এর আগে ১৯৬৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১০-০ গোলের ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। তবে ১৮৮২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩-০ গোলে জিতেছিল তারা। যেটা তাদের সবচেয়ে বড় জয়।

সান মারিনোকে পেলে বরাবরই গোল উৎসবে মেতে ওঠে ইংল্যান্ড। এর আগে দুটি ম্যাচেও তারা জয় পেয়েছে ৮-০ ও ৬-০ গোলের ব্যবধানে। তাদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মোট ৮ ম্যাচ খেলে ৫২টি গোল দিয়েছে ইংলিশরা। বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি।

সানমিরানোর মাঠে এদিন মাঝমাঠের একচ্ছত্র আধিপত্য রেখে খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ৮৫ শতাংশ সময় বল দখলে ছিল তাদের। ২২টি শটের ১৩টি লক্ষ্য রেখে ১০টি গোল আদায় করে নেয় তারা। অন্যদিকে দুটি শটের একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে সান মারিনো।

গোল উৎসবের শুরুটা ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে করেন মাগুইর। । ফিল ফোডেনের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন এ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার। ১৫তম মিনিটে স্বাগতিক ডিফেন্ডার ফিলিপ্পো ফাব্রির আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।

এরপর শুরু হয় কেইনের জাদু। ১৫ মিনিটের ব্যবধানে করেন চার গোল। ২৭তম মিনিটে স্পটকিক থেকে প্রথম গোল করেন। পাঁচ মিনিট পর স্মিথ-রোয়ের পাস থেকে দ্বিতীয় গোল পান কেইন। তৃতীয় গোলটিও আসে স্পটকিক থেকে। চতুর্থ গোলটি করেন ৪২তম মিনিটে।

দ্বিতীয়ার্ধের ১৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান স্মিথ-রোয়ে। ইংল্যান্ডের জার্সিতে এটাই তার প্রথম গোল। ৬৮তম মিনিটে দান্তে রসসি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সান মারিনো। ফলে আরও চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ৬৯তম মিনিটে মিঙ্গস, ৭৮তম মিনিটে আব্রাহাম ও ৭৯তম মিনিটে সাকার গোলে বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা।

১০ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কাতার বিশ্বকাপের টিকেট কাটল ইংল্যান্ড। এই গ্রুপের অপর ম্যাচে হাঙ্গেরির কাছে ২-১ গোলে হারা পোল্যান্ড ২০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় খেলবে পেল অফ।