সুযোগ হাতছাড়ার মহড়ায় মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ড্র
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য দেখাল বাংলাদেশ। দর্শকদের স্লোগানে মুখরিত মাঠে আক্রমণের পর আক্রমণ করল তারা। কিন্তু গোলমুখে গিয়ে খেই হারিয়ে সুযোগ নষ্টের মহড়া দিলেন ফুটবলাররা। বাধা হয়ে দাঁড়াল ক্রসবারও। তাই পাওয়া হলো না প্রত্যাশিত গোল, পাওয়া হলো না কাঙ্ক্ষিত জয়।
১৭ হাজার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়ার প্রীতি ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্যভাবে।
গত জানুয়ারিতে প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়া হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকল বাংলাদেশ। মালদ্বীপের কাছে গত শুক্রবার ২-০ গোলে হারে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
আগের ম্যাচে মালদ্বীপের মাটিতে হারা বাংলাদেশের একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা। বিশ্বনাথ ঘোষ ও বিপলু আহমেদের জায়গা নেন রিমন হোসেন ও আতিকুর রহমান ফাহাদ।
দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। রাকিব হোসেনের গোলমুখে ফেলা ক্রস ঠিকমতো গ্লাভসে লুফে নিতে ব্যর্থ হন মঙ্গোলিয়ার গোলরক্ষক। কিন্তু আলগা বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন সুমন রেজা।
দুই মিনিট পর মাঠে কুকুর ঢুকে পড়লে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় চার মিনিট পর আবার শুরু হয় দুই দলের লড়াই। ২০তম মিনিটে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার পাসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে সোহেল রানার দূরপাল্লার শট লক্ষ্যে থাকেনি।
৩৫তম মিনিটে ইয়াসিন আরাফাতের লম্বা থ্রোয়ের পর ডি-বক্সে বল পেয়ে যান রাকিব। তবে দুরূহ কোণ থেকে তার বাঁ পায়ের ভলি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে।
পাঁচ মিনিট পর ভাগ্যের ফেরে গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। সোহেলের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শরীর ঘুরিয়ে বাঁ পায়ে দারুণ শট নেন সুমন। বল ফিরে আসে ক্রসবার কাঁপিয়ে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অবশ্য হতাশ করেন সুমন। জামালের ফ্রি-কিক ইয়াসিনের হেডের পর ডি-বক্সে বুক দিয়ে বল নামিয়ে যথেষ্ট সময় নেন তিনি। কিন্তু এরপর যে শটটি নেন, তা চলে যায় গোলপোস্টের উপর দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে ছন্দ ছিল না বাংলাদেশের খেলায়। গুছিয়ে উঠে আক্রমণ শানাতে তাদের লেগে যায় অনেক সময়। ৭০তম মিনিটে মঙ্গোলিয়ার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোল মেলেনি জামালের। রিমনের পাসে তার ফ্লিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা হয়।
৭৫তম মিনিটে বদলি নামেন বিপলু ও জাফর ইকবাল। তাদের দুজনের বোঝাপড়ায় চার মিনিট পর সুযোগ তৈরি হয়। তবে জাফরের পাসে বিপলুর ভলি খুঁজে পায়নি জাল।
শেষদিকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ায় স্বাগতিকরা। তবে গোলের আনন্দে মাতোয়ারা হওয়া হয়নি তাদের। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে রায়হান হাসানের শটও ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে গেলে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাবরেরার শিষ্যরা।