স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশকে শিরোপা উৎসর্গ করছি: মারিয়া
শেষ বাঁশি বেজে উঠতেই গর্জন গ্যালারিতে। প্রায় ১৫ হাজার দর্শকের উল্লাসের তুমুল শব্দে কান পাতা দায়। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে ফুটবলারদের কেউ কেউ শুয়ে পড়লেন মাঠে। দারুণ প্রাপ্তির আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন কেউ কেউ। বাকিরা জাতীয় পতাকা নিয়ে করলেন মাঠ প্রদক্ষিণ। ভারতকে হারিয়ে পাওয়া এই শিরোপা দেশের জন্য উৎসর্গ করলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা।
বুধবার সন্ধ্যায় কমলাপুর বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি আসে আনাই মোগনির পা থেকে। লিগ পর্বেও ভারতকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।
ফাইনালের পর মারিয়া জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই শিরোপা দেশকে উপহার দিতে পেরে তারা অনেক আনন্দিত, 'স্বাধীনতার ৫০ বছরে বিজয়ের মাসে এটা আমরা দেশকে দিতে পেরেছি। তাই অনেক ভালো লাগছে। এই শিরোপাটা আমরা পুরো দেশকে উৎসর্গ করছি। প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করার কারণেই আমরা দেশকে এটা উপহার দিতে পারলাম।'
৫ গোল করে প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার দুটি পুরস্কারই জিতেছেন শাহেদা আক্তার রিপা। তার মতে, সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ধরা দিয়েছে এই অর্জন, 'সফলতার গোপন রহস্য হলো, সবার একসঙ্গে কাজ করা। কোচদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাকিরাও এই জয়ে ভূমিকা পালন করেছে। বিজয়ের মাসে (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে) বিজয় লাভ করায় আমরাও ভীষণ খুশি।'
পুরো আসরে নজরকাড়া ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশের তরুণীরা। পাঁচ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২০ গোল করার বিপরীতে তারা হজম করেনি একটি গোলও! এমন নৈপুণ্য আশাবাদী করছে কোচ ছোটনকে, 'দেখুন, ২০১৮ সালে সবশেষ যে শিরোপাটি আমরা জিতেছিলাম, সেটা ছিল অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের। এবার আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে আরও ভালো খেলেছি। পুরো প্রতিযোগিতায় আমরাই সেরা দল ছিলাম এবং লিগ পর্বে ভারতকে হারানোর চেয়েও ফাইনালে আমরা ভালো খেলেছি।'