হ্যাটট্রিক করে পেশাদার ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের চূড়ায় রোনালদো
সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। দল ভাল করছে না, নিজে সেরাটা দিতে পারছেন না, বয়সও কথা বলছে তার হয়ে। তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আবারও জানালেন একদম ফুরিয়ে যাননি তিনি। টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করে দলকে জিতিয়েছেন। তাতে করে আরও এক রেকর্ডে নাম উঠেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড আগেই হয়েছে। এবার আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলও এখন রোনালদোর।
শনিবার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে টটেনহ্যামকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ফিরেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে।
এমনিতে পেশাদার ফুটবলের (ক্লাব ও আন্তর্জাতিক) সম্মিলিত গোলের পরিসংখ্যান রাখে না ফিফা। এ নিয়ে আছে কিছু বিতর্কও। তবে আনঅফিসিয়াল পরিসংখ্যানবিদদের সংগঠন 'আরএসএসএসএফ'-এর হিসাব অনুযায়ী, তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার স্ট্রাইকার জোসেফ বিকানের গোল ৮০৫টি। এদিন তাকে ছাড়িয়ে রোনালদোর গোল সংখ্যা হলো ৮০৭।
স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস ও পর্তুগালের হয়ে এই গোলগুলো করেছেন রোনালদো।
রেকর্ডের রাতে রোনালদো করেছেন ক্যারিয়ারে ৫৯তম হ্যাটট্রিক। ইউনাইটেডের জার্সিতে এবারের ফেরার পর করলেন প্রথম হ্যাটট্রিক। রিয়ালে যোগ দেওয়ার আগে এই ক্লাবের হয়ে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছিলেন ২০০৮ সালে।
এদিন হ্যাটট্রিকের পথে আরও এক রেকর্ডে পা পড়ে তার। ৩৭ পেরুনো ফুটবলারদের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে এক ম্যাচে একাধিক গোল করা তৃতীয় ব্যক্তি রোনালদো। আগের দুজন টেডি শেরিংহাম ও গ্রাহাম অ্যালেকজান্ডার।
এদিন রোনালদোর গোল তিনটি ছিল দেখার মতো। তার মুন্সিয়ানাতেই বারবার খেলায় ফেরে ইউনাইটেড। ১২ মিনিটে বক্সের অনেক বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে জালে জড়ান তিনি। পেনাল্টি পেয়ে গোল করে হ্যারি কেইন সমতায় ফিরিয়েছিলেন টটেনহ্যামকে।.৩৮ মিনিটে জায়গামত থাকার ফলে ফাঁকায় বল পেয়ে টোকা মেরে জালে জড়িয়ে ফের এগিয়ে দেন দলকে। ৭২ মিনিটে আত্মঘাতি গোলে ফের ম্যাচে এসেছিল সমতা। ৮১ মিনিটে হেডে হ্যাটট্রিক পুরো করে রোনালদো মাতেন উৎসবে।
আগামী মঙ্গলবার নিজেদের মাঠেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর ম্যাচে অ্যাতলাটিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ইউনাইটেড। তার আগে সেরা ছন্দে ফিরলেন রোনালদো। এই দুই দলের প্রথম লেগ ছিল ১-১ সমতায়।