১০ বছরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ক্ষতি ১ বিলিয়ন ইউরো
এক দশক আগেও বিশ্বের অন্যতম লাভবান ক্লাব ছিল তারা। কিন্তু গত এক দশকে পরিস্থিতি বদলে হয়েছে তার ঠিক উল্টোটা। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ক্লাবটির নামই এখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর এ ক্ষতির পরিমাণ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি।
সোমবার নিজেদের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই দিয়েছে সুইজারল্যান্ডের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআইইএস ফুটবল অবসারভেটরি।
গত এক দশকে দেড় বিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে ম্যানচেস্টারের ক্লাবটি। কিন্তু সেখান থেকে আয় করেছে মাত্র ৪৭০ মিলিয়ন ইউরো। ফলে মোট ক্ষতি ১.১ বিলিয়ন ইউরো। অথচ সবশেষ শিরোপার মুখ তারা দেখেছে ২০১৬-১৭ মৌসুমে। এরপর চার মৌসুম ধরে শিরোপা শূন্য ক্লাবটি। শেষ ২০১২-১৩ মৌসুমে জিতেছে লিগ শিরোপা।
দল বদলে গত এক দশকে অনেক খেলোয়াড়ই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে কিনেছে ইউনাইটেড। কিন্তু আদতে ক্লাবটিকে কিছুই দিতে পারেনি সে সব খেলোয়াড়রা। পল পগবা তাদের মধ্যে অন্যতম। এ ফরাসি মিডফিল্ডারকে জুভেন্টাস থেকে উড়িয়ে আনতে খরচ হয় প্রায় ১০৫ মিলিয়ন ইউরো।
রোমেলু লুকাকুকে ৮৯ মিলিয়ন ইউরো, হ্যারি মাগুইরকে ৮০ মিলিয়ন ও জাডন সাঞ্চোকে ৮০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে কিনেও কোনো সাফল্য দেখেনি দলটি। মারুয়ানি ফেলানি ও হুয়ান মাতার মতো খেলোয়াড়দের পেছনে ক্লাবটি খরচ করে ৭৭ মিলিয়ন ইউরো। ডি মারিয়ার পেছনেও খরচ হয়েছিল ৭১ মিলিয়ন ইউরো। এছাড়া অ্যান্থনি মার্শিয়ালকে কিনতে খরচ হয়েছে ৪০ মিলিয়ন ইউরো।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঠিক পরেই অবস্থান করছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি। তাদের ক্ষতির পরিমাণ ৯৮৪ মিলিয়ন ইউরো। যদিও ইউনাইটেডের চেয়ে খরচ করেছে তারা। কিন্তু আয় করেছে তার চেয়েও বেশি। ইংলিশ লিগের শীর্ষ ২০ ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গত এক দশকে।
তৃতীয় স্থানে আছে লিওনেল মেসির বর্তমান ক্লাব পিএসজি। তাদের ক্ষতির পরিমাণ ৯৪১ মিলিয়ন ইউরো। পঞ্চম স্থানেই আছে মেসির সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা। ৬৫০ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতির মুখে পড়েছে তারা গত এক দশকে। শীর্ষ দশে ইংলিশ লিগের বাইরে আছে ইতালির ক্লাব জুভেন্টাস (৫৬১ মিলিয়ন) ও এসি মিলান (৪৩২ মিলিয়ন)।