তেতো কথায় কি তেতে উঠবেন বোলাররা?
প্রথম ওয়ানডের পরই বাংলাদেশের বোলারদের বিশেষ করে পেসারদের নিয়ে গালমন্দ চারপাশে। হবেই বা না কেন? ২৭৮ রান ডিফেন্ড করতে গিয়েও যে দক্ষিণ আফ্রিকার এক উইকেটও ফেলতে পারেননি তারা। নিন্দে হচ্ছে, টিম মিটিংয়ে হয়তো ঝাড়িও খাচ্ছেন, উঠছে সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্নও। চারপাশের এত তেতো কথায় কি দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তেতে উঠবেন? দেখা যাবে ঝাঁজ?
টেস্ট সিরিজ তো অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম প্রকাশ্যেই বোলারদের নিয়ে জানিয়েছিলেন হতাশা। টিম ডিরেক্টর হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়া খালেদ মাহমুদ সুজনও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। মাশরাফি ছাড়া বাকি পেসাররা নাকি পর্যাপ্ত অনুশীলনই করেন না।
প্রথম ওয়ানডেতে অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা ছাড়া বাকি সব পেসারই দিয়েছেন ছয়ের উপরে রান। বেদম মার খেয়েছেন তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেনরা। উইকেট পাওয়া তো দূরে থাক তৈরি করতে পারেননি কোন সুযোগও। এত রান করেও ১০ উইকেটে হারার বিব্রতকর রেকর্ড পাইয়ে দিয়েছেন দলকে। গেল বিশ্বকাপেও ১৪০ কিমির উপরে বল করা তাসকিন, রুবেলের বল থেকে মিলছে না আগের সেই পেসও। ঠিক রাখতে পারছেন না লাইন-লেন্থও।
টিম মিটিংয়ে যাইহোক। প্রকাশ্যে অবশ্য বোলারদের আগলেই রাখছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে দলের হয়ে কথা বলতে এসে তামিমও দাঁড়ালেন বোলারদের পক্ষে, ‘ব্যাটিং ইউনিটের যেমন সময় খারাপ যায় তেমনই একটি বোলিং ইউনিটেরও খারাপ সময় যেতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে, গণমাধ্যমেও বোলারদের নিয়ে বেশ কথা বলা হচ্ছে। হওয়াটাও স্বাভাবিক। হয়তো ওরা যথাযথ বোলিং করতে পারেনি। আমরা যেন ভুলে যাই, গত দুই বছরে আমাদের সাফল্যের পেছনে কিন্তু পেস বোলিং ইউনিটেরও বড় অবদান আছে।’
কথা উঠছে পেস বোলিং ওস্তাদ কোর্টনি ওয়ালশের কোচিং নিয়েও। তবে ওয়ালশের কোন খামতি দেখেন না তামিম, ‘ওয়ালশ যে তার অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেন এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমি একজন ব্যাটসম্যান, তাই তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ কম। যতটুকু বুঝি, দেখি, তিনি তার নিজের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করার চেষ্টা করছেন। দিন শেষে এটা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে, আমরা মাঠে কিভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল ফিরছেন। তাই নিশ্চিতভাবেই টপ অর্ডারে আসবে পরিবর্তন। সম্ভবত ইমরুল কায়েসকেই বাইরে বসে থাকতে হতে পারে। সেক্ষেত্র তামিমের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নামবেন লিটন দাস। এই ম্যাচেও সুযোগ নাও মিলতে পারে সৌম্য সরকারের।
মোস্তাফিজুর রহমানের বদলি শফিউল ইসলাম এখনো দলের সঙ্গে যোগ দেননি। তাই বোলিং লাইনআপে পরিবর্তনের খুব একটা সুযোগ নেই।