টিলা ধ্বংস করে ২৫২ কোটি টাকার পাথর লুট, দুদকের মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংস করে অবৈধভাবে ২৫২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার পাথর তোলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলী (৪০) নামে একজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সিলেটে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বুধবার মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী (৪০) উপজেলার কাঁঠালবাড়ী এলাকার মেসার্স বশির কোম্পানির স্বত্বাধিকারী। 

দুদক কর্মকর্তা মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে ১৩৭ দশমিক ৫ একর আয়োতনের শাহ আরেফিন টিলার ৬১ একর ভূমিতে পাথর তোলারা জন্য বশির কোম্পানিকে এক বছরের ইজারা দেয় খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো। ২০০৫ সালের এপ্রিল থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য এই ইজারা দেওয়া হয়। ইজারায় পাথর উত্তোলনে পরিবেশ সংরক্ষণসহ ১৩টি শর্তও দেওয়া হয়।

তবে, কার্যাদেশ পাওয়ার পর সব শর্ত ভেঙে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করে বশির কোম্পানি। শর্ত ভাঙার কারণে ইজারা বাতিল করে পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেয় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা না মেনে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখেন মোহাম্মদ আলী। 

এ ছাড়া, গত কয়েক বছরে নির্ধারিত এলাকা ছাড়াও পুরো টিলা এলাকার ১৩৭ দশমিক ৫ একর ভূমি থেকে অবৈধভাবে পাথর তোলেন। এতে ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটে।

sheikh_nasir-jaflong_pic_2.jpg
জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন। ছবি: স্টার


 মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শাহ আরেফিন টিলার ১৩৭ ধমমিক ৫ একর ভূমি থেকে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ কিউবিক ফুট পাথর তুলেছে মোহাম্মদ আলী। যার মাধ্যমে তিনি ২৫২ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছেন।

অবৈধ ও প্রতারণমূলকভাবে পাথর তোলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে দণ্ড বিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় মামলটি দায়ের করে দুদক।

২০০৪ সাল থেকে শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। এ নিয়ে নানা সমালোচনা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর গতবছর সম্পূর্ণরূপে পাথর তোলা বন্ধ হয়। পাথর তুলতে গিয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে অন্তত ২৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

২০১৭ সালে একসঙ্গে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটের জেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করে।
তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু শাফায়াত মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পুলিশ, প্রশাসনিককর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ ৪৭ জনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করে।