ধর্ষণ মামলা থেকে রক্ষা পেতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধর্ষণ মামলা থেকে রক্ষা পেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরের তারা কোর্টে এফিডেভিট করে মাইজদি শহরে বিয়ে করেন। 

ধর্ষণ ও বিয়ের খবরটি জানাজানি হওয়ার পর ওই ছাত্রলীগ নেতা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানা গেছে স্থানীয় সূত্রে। 

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. আবু সুফিয়ান। তিনি উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে। সুফিয়ান সুবর্ণচর উপজেলা ছাত্রলীগের ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে সুফিয়ান তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় মামলা করতে চাইলে দুই পরিবারের অভিভাবকরা আলোচনা করে বুধবার রাতে তাদের বিয়ের আয়োজন করে। 

তবে, বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে চরজব্বার থানার পুলিশ বিয়া বাড়ির দিকে রওনা করেন। পুলিশ আসার খবর শুনে বর ও কনে পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। 

পরে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মাইজদিতে গিয়ে কোর্টে এফিডেভিট করে ওই শিক্ষার্থীর বয়স বাড়িয়ে বিয়ে সম্পন্ন করেন। 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বুধবার সন্ধ্যায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা অভিযোগ জানলে আমি বিষয়টি সুবর্ণচর থানার ওসি মো. জিয়াউল হককে ফোনে বিষয়টি অবহিত করি।'

তিনি আরও বলেন, 'ধর্ষণের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা কোর্টে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে।'

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্ত মো. আবু সুফিয়ানের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদ পুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে বাল্য বিয়ে হচ্ছে বলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ সময় ছেলে পক্ষ পালিয়ে যায়। তবে, এ ঘটনায় কেউ আর থানায় আসেনি এবং কোনো লিখিত অভিযোগও করেনি। ধর্ষণের বিষয়েও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি।'

এ ছাড়া, বাল্য বিয়ের বিষয়ে বলেন, কোনোভাবেই বাল্য বিয়ে মেনে নেওয়া যায় না। এটা অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।