ইউপি নির্বাচনে আ. লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মনোনয়নপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম দফায় প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা ২ হাজার টাকা করে এবং পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এ ছাড়া, দুই দফায় পৃথকভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটির নেতারা ৫ লাখ টাকা আদায় করেছেন বলেও জানা গেছে।
তবে, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা নিতে হবে এ জাতীয় কোন নির্দেশনা নেই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।
২৫ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রথমে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে হয়।
নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে ওই ফরম সংগ্রহ করতে হয়েছে। এরপর ইউনিয়ন কমিটির তালিকায় থাকা প্রার্থীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয় থেকে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আবেদন ফরম উত্তোলন ও জমা দিয়েছেন।
মনোনয়ন প্রার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭২ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন কমিটির কাছ থেকে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে দলীয় ফরম কিনেছেন। তাদের মধ্য থেকে ৬৬ জন ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে উপজেলা কমিটির কাছ থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। মনোনয়ন ফরম বিক্রি বাবদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৭২ জনের নিকট থেকে ২ হাজার টাকা হারে ১ লাখ ৪৪ হাজার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ ৬৬ জনের নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা হারে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আদায় করেছেন ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।
নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত ২৫ অক্টোবর বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে দুই ধাপে, প্রথমে ২ হাজার, পরে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রস্তাব করেন। এরপর বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এম মোশাররফ হোসেন। সভাটি পরিচালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মীরদাহ। সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও ১০টি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মীরদাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ইউনিয়নের বর্ধিত সভায় কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। এ সভা আয়োজন এবং সমবেতদের নাস্তা খাওয়ার জন্য একটা খরচ আছে। এ জন্য ইউনিয়ন কমিটি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়েছেন।'
এ ছাড়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিকুল মীরদাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের দলীয় কার্যালয়টি ভগ্নদশা অবস্থায় রয়েছে। ওই ঘরটি সংস্কার করা প্রয়োজন। এর জন্য টাকা প্রয়োজন। এ কারণে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ৫ হাজার টাকা নির্দিষ্ট করা হয়নি। যিনি যা পেরেছেন, তিনি তা দিয়েছেন। কাউকে জোর দেওয়া হয়নি।'
জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মনোনয়ন প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোন নির্দেশনা আওয়ামী লীগের নীতিমালায় নেই। যারা টাকা নিয়েছে, তারা অন্যায় করেছে।'