বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীদের উপর আওয়ামী লীগ প্রার্থী এবং তার কর্মীদের হামলার অভিযোগ
বগুড়ায় পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নের বিহার বাজারের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পাশে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মতিউর রহমান বিহার ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি। দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে তিনি নির্বাচন করছেন বলে জানিয়েছেন।
মতিউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজ সকালে বিহার বাজারে আমার ২ সমর্থক সাজু ও ইউসুফ আমার নির্বাচনী পোস্টার লাগাচ্ছিল। ওই সময় মহিদুলের লোকজন এসে তাদের বাধা দিলে তারা প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করার জন্য তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত-পায়ের রোগ কেটে দেওয়া হয়। এই সময় রেজাউল করিম নামের আমার এক কর্মী তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে মহিদুল লোকজন নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এখন সে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এই ঘটনার পরে মহিদুলের লোকজন বিহার গ্রামে আমার সমর্থকদের ৭-৮ বাড়িতে হামলা করে বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং নারীদেরকেও লাঞ্ছিত করেছে।'
তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'আমরা পুলিশকে অভিযোগ দিয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ মহিদুলের পক্ষে নিয়ে হামলায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করে। পুলিশ হামলা ঠেকানোর জন্য কোনো ভূমিকা রাখেনি।'
মহিদুলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মতিনের আরেক এক সমর্থক রবিউল ইসলামের হাত-পায়ের রোগ কেটে দিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিউলের ভাই আবু রায়হান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মহিদুলের লোকজন আজ আমাদের গরম মোন্না পাড়াতে হামলা চালিয়ে অনেকগুলো বাড়িঘর তছনছ করে। এ সময় তারা আমার ছোট ভাই রবিউলকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাত-পায়ের রোগ কেটে দিয়ে তাকে নদীতে ফেলে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।'
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে মতিনের লোকজনের বিরুদ্ধে তার একজন কর্মীকে মারপিটের অভিযোগ করেন।
মহিদুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শিবগঞ্জ উপজেলায় আজ আওয়ামী লীগ এর একটি মিটিং ছিল। আমি সেখানে ছিলাম। আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম আমার এক কর্মী আবু সাঈদকে মতিনের লোকজন মেরেছে তাকে দেখার জন্য। হাসপাতালে গিয়ে আমি কোন মারামারি করিনি।
আহতদের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার জাহিদুল ইসলাম জুয়েল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ পর্যন্ত ছোট-খাটো আঘাত নিয়ে এখানে ৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আরও ৩ জন ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে আবু সাঈদের (৫০) সারা শরীরে আইরন রড এই রকম কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। রেজাউল করিম (৩৮) নামের একজনের মুখে আঘাত আছে এবং সেখান থেকে রক্ত ঝরছে। বিকেল ৪টার সময় রবিউল ইসলাম (২৫) নামে আরও একজন ভর্তি হয়েছেন তার হাতে পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটার দাগ আছে।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক ডাক্তার বলেন, 'জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়ার সময়ও এখানে মারামারি হয়েছে।'
শিবগঞ্জ সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসানের কাছে পুলিশের পাহারায় হামলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি এই রকম নয়। আমি সদর উপজেলায় ছিলাম। এই বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আপনি ওসিকে ফোন করেন।'
পরে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলামকে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'শিবগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে কয়েকটি ইউপিতে সংঘর্ষের সম্ভাবনা আছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থায় আছে। আজকের ঘটনায় মামলা নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের ধরার জন্য পুলিশ মাঠে নেমেছে।'
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মহিদুল ইসলাম বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি আজকের সহিংসতায় আহত রবিউলের ভাই শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যাসহ একাধিক মামলা চলমান আছে ।