বাউফল ইউপি নির্বাচনে আগ্নেয়াস্ত্র আতঙ্ক
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতা বেড়েই চলছে। এই সহিংসতায় ব্যবহার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। গত দুই দিনে উপজেলার নওমালা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন একজন। অথচ এখনও উদ্ধার হয়নি একটি অস্ত্রও। এ নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক।
স্থানীয়রা জানায়, ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে উপজেলার সূর্যমনি ও নওমালা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নওমালা ইউনিয়নে নির্বাচন হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে। এ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নওমালা ইউনিয়ন।
নওমালা ইউনিয়নে ৮জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে লড়াই করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বিশ্বাস (নৌকা) ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাদা হাওলাদারের (ঘোড়া) মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থীর এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, অপর পক্ষে বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাদার পক্ষে আছেন বাউফল পৌর সভার মেয়র পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল।
তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নওমালা ইউনিয়নে ঘটছে একের পর এক সহিংসতা। এই সহিংসতায় ঘর-বাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুরসহ আহত হচ্ছেন কর্মী-সমর্থকরা। গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে কমপক্ষে অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন একজন।
গতকাল সোমবার বেলা ১১ টার দিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত পক্ষের কয়েক কর্মী-সমর্থক ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াছিন ডাক্তার বাড়িতে গণসংযোগ করতে যান। তখন বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাদার পক্ষের কর্মী সমর্থকরা নৌকার সমর্থকদের বাধা দেয় এবং লাঞ্ছিত করে করে বলে অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।
এর আগে গত শনিবার রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নওমালা কলেজ সড়কের সাহা গাজীর বাড়ির সামনে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় শাহাজাদা হাওলাদারের কর্মী মো. সজীব (২০) গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ গুলিবিদ্ধ ওই যুবককে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে গুলি বের করা হয়।
সহিংতায় অস্ত্রের ব্যবহারে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাদা তার নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে আমার কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা করছেন। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে গুলিও করা হচ্ছে। আমি নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।'
অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহজাদা হাওলাদার বলেন, 'আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন আমার ও আমার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছি।'
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ স ম ফিরোজ বলেন, 'যারা জনগণের কল্যাণে কাজ করেন তাদেরই জনপ্রতিনিধি হওয়া উচিত। অস্ত্রবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে জোর করে জনপ্রতিনিধি হওয়া যায় না। যারা এসব করে তারা জনবিচ্ছিন্ন। মানুষ তাদের বর্জন করবে।'
বাউফল পৌরসভা মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। টেক্সট মেসেজ দেওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আগ্নেয়াস্ত্রের এমন ব্যবহার সত্যিই দুঃখজনক। এতে জনমনে আতংক তৈরি হচ্ছে। পুলিশের উচিত এসব অস্ত্র উদ্ধারসহ এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সহিংসতায় গুলি ছোড়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সোমবার তিন-চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। সোমবারের ঘটনায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বাদি হয়ে একজনকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যারা গুলি ছুড়েছে তাদেরকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'