রাজাকার পুত্রকে আ. লীগের মনোনয়ন, পুনর্বিবেচনার দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের ছলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজন রাজাকারের সন্তানকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
গতকাল বুধবার দুপুরে ইউনিয়নের খাককান্দাবাজারে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ এলাকার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।

এসময় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিনকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভ জানান তারা।

তাদের অভিযোগ, আবদুল মতিনের বাবা সমন্দর মিয়া একাত্তরে রাজাকার ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ছলিমাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবুল মিয়া, ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অহিদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি তনু মুন্সী, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আক্তার হোসেন, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম।

মানববন্ধনে প্রতিবাদকারীরা জানান, আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে বাঞ্ছারমাপুর উপজেলার ১৩টির মধ্যে ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৬ অক্টোবর এসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। এতে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন থেকে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিনের নাম ঘোষণা করা হয়। 

ছলিমাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবুল মিয়া, বলেন, আবদুল মতিনের বাবা সমন্দর মিয়ার নাম ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে করা রাজাকারের তালিকায় ছিল।

বক্তারা বলেন, রাজাকারের সন্তান আওয়ামী লীগের মতো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পাওয়ায় তারা এটি পুনর্বিবেচনা করতে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর উপজেলা সদরের মাওলাগঞ্জ বাজারে ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম মিলনায়তনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ছলিমাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাই করতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোট দেন। ভোটে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল মিয়া ১৩২ এবং আব্দুল মতিন ১১৭ ভোট পান।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী জালাল মিয়া  বলেন, কাউন্সিলে আমি ১৩২ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছি। মতিন দ্বিতীয় হয়েছেন। মতিনের বাবা একজন যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার ছিলেন। তাই লোকজন তার মনোনয়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য দলীয় সভানেত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল মতিন বলেন, 'আমার প্রয়াত বাবার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। এসব ঠিক না।'

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের সময় কাউন্সিলরদের ভোটে প্রথম হয়েছেন জালাল। আমরা এই তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। কিন্তু কীভাবে মতিন মনোনয়ন পেলেন তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। এখন এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম দলীয় সভানেত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।