নতুন বাজেটে চালু হতে পারে উত্তরাধিকার কর, কমবে কর অব্যাহতি

স্টার বিজনেস রিপোর্ট

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় বাড়াতে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এর মধ্যে রয়েছে সম্পদ কর পুনর্বহাল, উত্তরাধিকার কর চালু, অতি-ধনীদের জন্য উচ্চতর কর হার নির্ধারণ ও বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধার যৌক্তিকীকরণ।

আজ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে এনবিআর সদর দপ্তরে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এসব প্রস্তাবের কথা জানান।

ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়তে থাকায় সরকারি অর্থায়নের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, 'আমরা সম্পদ কর পুনর্বহালের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।'

১৯৬৩ সাল থেকে দেশে এই কর ব্যবস্থা চালু ছিল। পরে ১৯৯৯ সালে এটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন এবং তথ্যপ্রাপ্তি নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আবদুর রহমান খান বলেন, 'এনবিআর অন্তত সীমিত পরিসরে হলেও উত্তরাধিকার কর প্রবর্তনের চিন্তা করছে। এতে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।'

কর অব্যাহতি সুবিধার বিষয়ে তিনি বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, 'বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর অব্যাহতি প্রয়োজন ঠিক। তবে এটি আজীবন চলতে পারে না। আমরা পর্যায়ক্রমে এগুলো তুলে দিয়ে সুবিধাভোগীদের নিয়মিত কর ব্যবস্থার আওতায় আনব।'

এনবিআর অতি-ধনীদের জন্য সর্বোচ্চ আয়কর হার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, এই প্রস্তাবনা অর্থমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে।

তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই যাদের বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার বেশি, তাদের করহার প্রায় ৫ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা করছে এনবিআর।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, 'উন্নত দেশগুলোতে সর্বোচ্চ কর হার ৪৫-৫৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়, যেখানে আমাদের দেশে এটি তুলনামূলক কম। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের কর হার এক সময় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল, যা ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে।'

বাজেট দক্ষতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত এক দশকে বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

'করদাতারা যদি দেখেন যে তাদের টাকার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, তবেই জনগণের আস্থা বাড়বে,' যোগ করেন তিনি।

তামাক, এসএমই এবং ডিজিটাল সংস্কার আগামী বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। অবৈধ তামাক প্রস্তুতকারকদের ফাঁকি রোধে জাল ট্যাক্স স্ট্যাম্প শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে এনবিআরের।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য কর অব্যাহতি সুবিধাগুলো কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ওপর এই ছাড় কার্যকর করা হবে।