ঈদের সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে যা বললেন ৫ তারকা

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

তানিম নূর গত ঈদে ‘উৎসব’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করে হইচই ফেলে দেন। দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয় ‘উৎসব’ এবং ব্যবসাসফলও হয়। 

এবার তিনি নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। আসছে ঈদে মুক্তির মিছিলে রয়েছে সিনেমাটি।

একঝাঁক তারকা অভিনয় করেছেন ওই সিনেমায়। সেখান থেকে ৫ জন কথা বলেছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে।

চঞ্চল চৌধুরী

প্রথম কথা হচ্ছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্র বলতে কিছু নেই। সবাই সেরা চরিত্র। সবাই যার যার দিক থেকে ভালো করেছেন।

চঞ্চল

সম্পূর্ণ টিমটা খুব ভালো করেছে। এত সুন্দর টিম হয়েছে যা অনেক দিন মনে থাকবে। গল্পটা দুর্দান্ত। হুমায়ূন আহমেদ মূলত গল্পের জাদুকর। তার লেখায় জীবনের ছোঁয়া থাকে। এখানেও তাই আছে। দর্শকরা বিনোদন যেমন পাবেন, সেই সঙ্গে হাসির বিষয়ও আছে। বড় কথা হচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ খাঁটি বাংলাদেশি গল্প। একশো ভাগ এদেশের গল্প। এই সিনেমায় আমি ও মোশাররফ করিম ১২ বছর পর একসঙ্গে কাজ করেছি। এছাড়া, রাজ, বাঁধন, মম সহ যারা এই সিনেমার অংশ, তারা প্রত্যেকেই চমৎকার অভিনয় করেছেন। 

এই সিনেমাটি পরিবারের সবার জন্য। ছোট-বড় সবার এবং পরিবার নিয়ে দেখার মতো। পরিচালক তানিম নূর ‘উৎসব’ নির্মাণ করে বেশ আলোচিত হয়েছেন এবং এবারের ঈদের জন্য ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নির্মাণ করেছেন। জোর দিয়ে বলতে পারি ‘উৎসব’-কে ছাড়িয়ে যাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। আমি অভিনয় করেছি একজন মন্ত্রীর চরিত্রে। এই ধরনের চরিত্র এবারই প্রথম করা।

আজমেরী হক বাঁধন 

হুমায়ূন আহমেদ স্যারের গল্প পাঠকদের যেভাবে টানে, একইভাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার স্ক্রিপ্টও লেখা হয়েছে। দুর্দান্ত স্ক্রিপ্ট হয়েছে। সবার ভালো লাগবে। 

বাঁধন

গল্পটা আসলে ট্রেনের। একটি জার্নির গল্প। ‘উৎসব’-কে ছাড়িয়ে যাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। আমরা এফডিসিতে শুটিং করেছি। ওখানে সেট ফেলে শুটিং হয়েছে। এইরকম সেট আগে কখনো হয়েছে কিনা জানা নেই। শুটিং করবার সময় মনে হয়েছে ট্রেনের মধ্যেই শুটিং করছি। এবারের ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সব বয়সী দর্শকদের ছুঁয়ে যাবে। এটি আমাদের দেশের সিনেমা। গল্প মৌলিক, শুটিং হয়েছে দেশে, সবকিছু এখানেই। কাজেই দারুণ একটি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

জাকিয়া বারী মম

হুমায়ূন আহমেদ হচ্ছেন কথার জাদুকর। তার লেখা মানেই দারুণ কিছু। তার লেখা উপন্যাস থেকে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ নির্মিত হয়েছিল। যেখানে অভিনয় করে সবার ভালোবাসা পেয়েছি। এখনো অনেকেই ‘দারুচিনি দ্বীপ’ নিয়ে কথা বলেন। 

মম

কথার জাদুকরের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস থেকে তানিম নূর পরিচালনা করেছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এই সিনেমায় একঝাঁক শিল্পীরা অভিনয় করেছেন। আমিও অভিনয় করেছি। ভীষণ ভালো লেগেছে কাজটি করে। আমার বিশ্বাস দর্শকদের ভালো লাগবে। ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে সিনেমাটি। যেসব সহশিল্পীরা অভিনয় করেছেন, প্রত্যেকে খুবই ভালো করেছেন।

ফারুক আহমেদ

তানিম নূরের পরিচালনায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি করতে গিয়ে ভালো কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। মেধাবী একজন পরিচালক। জানা-শোনা পরিচালক। একটি দৃশ্য করতে গিয়ে কোনো দ্বিধায় থাকেননি। সুন্দর করে কাজ আদায় করে নিয়েছেন। ইতিবাচক মানুষ তিনি। 

ফারুক আহমেদ

এই সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদকে খুব মিস করেছি। কেননা, গল্পটা তার। তবে, সব কাজ করতে গিয়েই হুমায়ূন আহমেদকে মিস করি। আর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ করতে গিয়ে বেশি মিস করেছি। দর্শকরা আমাকে দেখবেন হেলিকপ্টার নিয়ে আসি, এরপর রোগীকে নিয়ে যাই। অনেক তারকা আছেন এই সিনেমায়। দর্শকদের ভালো লাগবেই। প্রত্যাশা অনেক। অসম্ভব ভালো একটি সিনেমা হতে যাচ্ছে। মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরী আছেন, শরিফুল রাজ অভিনয় করেছেন। ডা. এজাজ অভিনয় করেছেন। আরও অনেক প্রিয়মুখ অভিনয় করেছেন। আমার বিশ্বাস বাজিমাত করবে সিনেমাটি।

ইন্তেখাব দিনার 

‘উৎসব’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করে তানিম নূর ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন। প্রশংসাও কুড়িয়েছেন অনেক। তার পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ খুব ভালো কিছু হতে যাচ্ছে। দর্শকরা যেমন অপেক্ষা করছেন, আমিও অপেক্ষা করছি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার জন্য। 

ইন্তেখাব দিনার

শুটিং করেছি এফডিসিতে। এত চমৎকার সেট নির্মাণ করা হয়েছিল যা ভুলবার নয় সহজে। এই সিনেমায় চিত্রার চাচার চরিত্রে অভিনয় করেছি। কাজটি বেশ উপভোগ করেছি। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে প্রত্যাশা অনেক। দর্শকদের ভালো লাগবে।