‘৭০-৮০ বছরের বয়স্ক মানুষ সিনেমা হলে আসছেন, এটা বড় পাওয়া’
তানিম নূর – এই নামটি বর্তমান সময়ে সিনেমাপাড়ায় উচ্চারিত হচ্ছে অনেক বেশি। তার পরিচালনায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শক চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে টিকিট বিক্রি। এখনো অনেকেই টিকিট পাচ্ছেন না। দেশের বাইরেও দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন।
এর আগে উৎসব সিনেমা নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন তিনি।
সফল চলচ্চিত্র পরিচালক তানিম নূর আজ কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।
দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস সবদিক থেকে সফল একটি সিনেমা। এত বড় সাফল্যের মূল রহস্যটা কী?
তানিম নূর: আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে সিনেমা একার না, সবার সম্মিলিত চেষ্টার ফসল। সিনেমা নির্মাণে আমার সঙ্গে যারা ছিলেন, সবাইকে কৃতিত্ব দেব। শিল্পী, স্ক্রিপ্ট রাইটার, চিত্রগ্রাহক থেকে শুরু করে টিমের সবাই শতভাগ শ্রম ও ভালোবাসা দিয়েছেন। ভালোবেসে কাজটি করেছেন। এখানে আমার একার ক্রেডিট না, সবার। সবাই কাজটি যত্ন নিয়ে করেছেন বলেই দর্শকরা এত আগ্রহ নিয়ে দেখছেন।
দ্য ডেইলি স্টার: হুমায়ুন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি বেছে নেওয়ার কারণ কী?
তানিম নূর: ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি পড়ার পর ভালো লেগেছে। এই উপন্যাসটি বেছে নেওয়ার পেছনে কিছু কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, এটি ট্রেন জার্নির গল্প। সারা পৃথিবীতে ট্রেন জার্নি নিয়ে প্রচুর সিনেমা হয়েছে। অসংখ্য সিনেমার অংশ বিশেষ ট্রেনে শুটিং হয়েছে। ট্রেনের গল্পের মধ্য দিয়ে পুরো বাংলাদেশের চিত্র উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত ট্রেনের যাত্রী। দ্বিতীয়ত, স্বাধীন আমাকে একদিন উৎসব সিনেমার পর বললেন ‘কিছুক্ষণ’ নিয়ে কাজ করতে। এরপর বইটি পড়ি। সম্ভবত এই বইটি আমার আগে পড়া ছিল না। পড়ার পর দেখলাম এই উপন্যাসে অনেক কিছু আছে। কাজটি করা যায়। এভাবেই ‘কিছুক্ষণ’ নিয়ে কাজ করি।
দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার বেশিরভাগ শিল্পীরা বলেছেন উৎসবকেও ছাড়িয়ে যাবে, আপনার মন্তব্য কী?
তানিম নূর: এটি হয়েছে দর্শকদের জন্য। উৎসবকে ছাড়িয়ে যাবে বনলতা এক্সপ্রেস — সম্ভব হয়েছে দর্শকদের জন্য। দর্শকরা ভালো সিনেমা বানালে উৎসাহ দেন, হলে আসেন। এদেশের দর্শকরা মুখিয়ে থাকেন ভালো গল্পের জন্য, ভালো সিনেমার জন্য। উৎসব দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন। বনলতা এক্সপ্রেস আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। এজন্যই এই সিনেমাটি উৎসবকেও ছাড়িয়ে গেছে। আমরা কৃতজ্ঞ দর্শকদের কাছে।
দ্য ডেইলি স্টার: সিনেমাপাড়া থেকে সবখানে বলা হচ্ছে আপনি একজন সৌভাগ্যবান পরিচালক?
তানিম নূর: আমিও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। কেননা, আপনি একটি সিনেমা বানাবেন, তারপর দর্শকরা কীভাবে নেবেন তা আগে থেকে বলা সম্ভব না। সিনেমা দর্শকরা গ্রহণ করতেও পারেন আবার না-ও করতে পারেন। পুরোটাই দর্শকদের ওপর নির্ভর করছে। দর্শকরা আমার পরিচালিত উৎসব সিনেমা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন, বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমাও দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। কাজেই, নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।
দ্য ডেইলি স্টার: অসংখ্য দর্শক বনলতা এক্সপ্রেস দেখছেন, কোন স্মৃতি আপনার মনে দাগ কেটে আছে?
তানিম নূর: অনেক ভালো ভালো স্মৃতি আছে। স্মৃতিগুলো মনে দাগ কেটে আছে। স্মৃতিগুলো মনে থাকবে। দর্শকরা দল বেঁধে হলে যাচ্ছেন — এই দৃশ্য অনেক আনন্দের। ৭০-৮০ বছরের বয়স্ক মানুষ হলে এসেছেন, এটা বড় পাওয়া। ৯ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা হলে এসেছেন, মুগ্ধ হয়েছি।
দ্য ডেইলি স্টার: পরবর্তী সিনেমা নিয়ে ভেবেছেন?
তানিম নূর: এখনো ভাবিনি। আরও সময় যাক, তারপর বলা যাবে। তবে প্রযোজনা করব যা অন্য কোনো পরিচালক নির্মাণ করবেন।
দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস দেশের বাইরে মুক্তি পেয়েছে, কেমন সাড়া পাচ্ছে?
তানিম নূর: খুব ভালো সাড়া পাচ্ছে দেশের বাইরে। নর্থ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ অনেকগুলো দেশে মুক্তি পেয়েছে। দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন দেশের বাইরেও। নর্থ আমেরিকায় তিন লাখ ২২ হাজার ডলার টিকিট বিক্রি হয়েছে এখন পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়ায় এক লাখ ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছে। আরও বাড়বে।
দ্য ডেইলি স্টার: বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার গ্রস কালেকশন কত?
তানিম নূর: গতকাল পর্যন্ত সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এটা গ্রস কালেকশন। এখনো দর্শকরা টিকিট পাচ্ছেন না, এটা আনন্দের খবর। আশা করছি চলতেই থাকবে। একটি তথ্য যোগ করতে চাই। তা হচ্ছে — বাংলাদেশে দশ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হলে ট্যাক্স দিতে হবে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা।
দ্য ডেইলি স্টার: সন্ধ্যার পর শো বন্ধ, কীভাবে দেখছেন?
তানিম নূর: রাতের শো বন্ধ, ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দর্শকরাও দেখতে পাচ্ছেন না। থিয়েটারের শো হচ্ছে, অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে রাতে। কিন্তু সিনেমার শো রাতে বন্ধ। এতে করে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।



