চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ২৬ হাজার টন অকটেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তজনার মধ্যে জ্বালানি তেলের একটি বড় চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। বুধবার রাতে ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে আসা ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে ভিড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, অকটেনের এই চালান আসায় দেশে চলমান সংকট কিছুটা হলেও কমবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এমটি সেন্ট্রাল স্টার ছাড়াও চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে আরও চারটি জাহাজ প্রায় ৪৩ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে খালাসের অপেক্ষায় আছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রাফায়েত হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া, ভারত ও চীন থেকে অকটেন, ডিজেল ও এলপিজিবাহী পাঁচটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিপিসি এসব জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস করবে। আগামী কয়েক দিনে আরও বেশ কিছু জাহাজ আসার কথা রয়েছে।’

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার অকটেনের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল এবং ভারত, চীন ও মালয়েশিয়া থেকে পৃথক তিনটি জাহাজে করে প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন এলপিজি বন্দরে পৌঁছেছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ৪ লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল, ২ লাখ টন অপরিশোধিত তেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি আমদানির চুক্তি করা হয়েছিল। এর মধ্যে অনেকগুলো চালান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পিছিয়ে গিয়েছিল।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় পিছিয়ে থাকা জ্বালানি তেলের চালানগুলো আসার পথ সুগম হয়েছে। এখন দ্রুতই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

গত এক মাস ধরে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় খুচরা বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো পেট্রোল ও অকটেন পাচ্ছেন না চালকেরা।