এক মাসে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ১০ শতাংশ
টানা তিন মাসে ধরে বেড়েই চলেছে জেট ফুয়েলের দাম। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার আবারও নতুন করে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
যার ফলে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট এ-১ জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ওই জ্বালানির দাম ছিল ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জ্বালানির দাম গত মাসের ১.০৭ ডলার থেকে বেড়ে প্রতি লিটারে প্রায় ১.১৯ ডলার করা হয়েছে।
সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, গত এক মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জেট ফুয়েলের দাম ১৭.০৬ টাকা বা ১০.৩ শতাংশ বেড়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর থেকেই জ্বালানির বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে এক মাসে দুইবার দাম সমন্বয় করতে হয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে।
এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম সর্বোচ্চ ২২৭.০৮ টাকা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ১.৪৮ ডলারে উঠেছিল।
এরপর জুলাই পর্যন্ত দাম কমতে থাকে। ওই মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে ১৩০.৯৯ টাকায় নেমে আসে।
এরপর আবার বাড়তে শুরু করে। আগস্টে তা ১৫৯.৫২ টাকা, সেপ্টেম্বরে ১৬৫.৬৫ টাকা এবং চলতি অক্টোবরে ১৮২.৭১ টাকায় উঠেছে।
অর্থাৎ তিন মাসে ফুয়েলের দাম ৩৯.৫ শতাংশ বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দামও প্রায় একই গতিতে বেড়েছে। জুলাইয়ে প্রতি লিটার ০.৮৫ ডলার থেকে আগস্টে ১.০৩ ডলার, সেপ্টেম্বরে ১.০৭ ডলার এবং চলতি মাসে ১.১৯ ডলারে উঠেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে ৯৪.৯৩ টাকা ছিল।
এয়ারলাইনসগুলোর জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের পরিচালন ব্যয়ের অন্যতম বড় অংশটি জেট ফুয়েল থেকে আসে।
জেট ফুয়েলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকলে এয়ারলাইনসগুলোর মুনাফার পরিমাণ কমতে পারে এবং ভাড়ার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে যেসব রুটে বাড়তি পরিচালন ব্যয় বহন করার সুযোগ এয়ারলাইনসগুলোর সীমিত, সেখানে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম, বিনিময় হার ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে জেট এ-১ ফুয়েলের দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।
বাংলাদেশে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড একচেটিয়াভাবে এই ফুয়েল সরবরাহ করে।