গল্প

গোয়েন্দা গাবলু

duke john
ডিউক জন

আমার নাম গাবলু। আমি সূত্র খুঁজি, রহস্যের সমাধান করি।

এক বিকেলে দাদুর সাথে গিয়েছিলাম আমাদের পাড়ার শপিং মলে। কর্নারের একটা দোকানে ঢুকলাম আমরা।

‘শার্ট পছন্দ করো,’ বললেন দাদু।

ডোরাকাটা একটা শার্ট মনে ধরল আমার। দুটো বুকপকেট রয়েছে শার্টটায়।

‘এই যে, আরমান!’ কেউ একজন ডেকে উঠল এসময়। আরমান আমার দাদুর নাম।

ঘুরে তাকালাম আমি। দাদুর বন্ধু হামিদ চাচা এগিয়ে আসছেন আমাদের দিকে। বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে তাকে। কাছে এসে বললেন, ‘আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে, আরমান!’

‘কী হয়েছে, হামিদ?’ দাদু জিজ্ঞেস করলেন।

হামিদ চাচা বললেন, ‘আমার গাড়িটা হারিয়ে ফেলেছি!’

‘নীল গাড়িটা?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি।

‘হ্যাঁ,’ বললেন হামিদ চাচা।

‘হয়তো কেউ চুরি করেছে ওটা,’ দাদু বললেন। হামিদ চাচা যেখানে রেখেছিলেন গাড়িটা, সেই জায়গাটা দেখাতে বললেন তিনি।
‘এসো আমার সঙ্গে,’ বললেন হামিদ চাচা।

আমরা তার সঙ্গে গাড়ি রাখার জায়গায় গেলাম।

‘ঠিক এখানেই রেখেছিলাম গাড়িটা,’ বললেন তিনি। সারি করে রাখা কয়েকটা গাড়ির দিকে আঙুল দেখালেন।

‘গাড়ি পার্ক করার পর কী করেছিলে তুমি?’ বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন দাদু।

‘শপিং মলে ঢুকেছিলাম জামা কেনার জন্য,’ হামিদ চাচা জবাব দিলেন।

‘কোন দোকানে ঢুকেছিলে, মনে আছে?’ প্রশ্ন করলেন দাদু।

‘এসো, দেখাচ্ছি।’

আমরা হামিদ চাচার পিছু নিলাম। দোকানের ভেতরে ঢুকতেই চাচা বললেন, ‘পুরুষদের জামাকাপড় ওই দিকে।’ আমরা হামিদ চাচার দেখানো দিকে তাকালাম।

তিনি বললেন, ‘কোনো কাপড়চোপড় পছন্দ না হওয়ায় কার পার্কিংয়ে ফিরে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি, গাড়িটা গায়েব! কী করব, বুঝতে পারছিলাম না। ফের শপিং মলে ঢুকতেই তোমাদের দেখা পেলাম।’

হারিয়ে যাওয়া গাড়িটার কথা ভাবতে লাগলাম আমি। কোথায় উধাও হতে পারে ওটা?

আচমকা মাথায় খেলে গেল সম্ভাবনাটা! হামিদ চাচাকে বললাম, ‘চাচা, আপনি কি সামনের দরজা দিয়েই বেরিয়েছিলেন দোকান থেকে?’

‘না। ওদিকেও একটা দরজা আছে, সেদিক দিয়ে।’ তিনি পুরুষদের সেকশনটা দেখালেন আবার।

সামনের দরজা দিয়েই বেরিয়ে এলাম আমরা।

‘চলুন, পার্কিংয়ে যাই আরেকবার,’ বলি আমি।

আবার গেলাম গাড়ি রাখার জায়গায়।

‘আরে! কোত্থেকে এল গাড়িটা!’ বিস্ময়ে বলে উঠলেন চাচা।

হ্যাঁ, যথাস্থানেই রয়েছে তার নীল গাড়ি। অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন তিনি।

‘আসলে,’ বললাম আমি। ‘অন্য দরজা দিয়ে বের হওয়ার কারণেই সম্ভবত দিক ভুল করেছিলেন আপনি। তাই যেখানে গাড়িটা থাকার কথা, সেই জায়গায় খোঁজেনইনি।’

‘ব্রাভো!’ বলে আমার পিঠ চাপড়ে দিলেন দাদু।

‘ধন্যবাদ, গাবলু! অসংখ্য ধন্যবাদ!’ কৃতজ্ঞতা ঝরল হামিদ চাচার কণ্ঠে। ‘এখন বলো, কী খেতে চাও তুমি। যা চাইবে, তা-ই পাবে।’

শুনেই খুশিতে দাঁত বেরিয়ে গেল আমার।