ওয়াশিংটন পোস্টের ৩৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা
ঐতিহ্যবাহী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার থেকে প্রতিষ্ঠানটি বড় আকারে কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রমে নেমেছে।
আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সংবাদমাধ্যমটির মুখপাত্র জানান, ছাঁটাই কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত তিন ভাগের এক ভাগ কর্মী চাকরি হারাবেন। নিউজরুমের ‘শত শত’ কর্মী চাকরি হারাবেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন-বাল্টিমোর গিল্ড ইউনিয়ন। পোস্টের কর্মীরা ওই ইউনিয়নের সদস্য।
সংবাদমাধ্যমের কর্মীদেরকে নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে ফোন কলের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানান। ফোন কলটির রেকর্ডিং রয়টার্স সংগ্রহ করেছে।
এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক, সম্পাদনা, মেট্রো ও স্পোর্টস ডেস্কের ছাঁটাইয়ের কথা জানা গেছে।
শুধু কর্মীর সংখ্যা নয়, কমছে সংবাদমাধ্যমটির কলেবরও।
চরম আর্থিক ক্ষতির মধ্যে কিছুদিন আগেই ২০২৬ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের কভারেজ কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয় সংবাদমাধ্যমটি।
কলে নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে বলেন, ‘পুরনো আমলে স্থানীয় পত্রিকাগুলো যেমন একচেটিয়া ব্যবসা করতো, সেরকম একটি ব্যবসায়িক কাঠামো আমরা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করে এসেছি। আমাদেরকে এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ খুঁজে পেতে হবে এবং আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে হবে।’
পোস্টের এক সাংবাদিক নাম না প্রকাশের শর্তে ছাঁটাই এর ঘটনাটিকে ‘রক্তবন্যা বইয়ে দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেন।
অন্য অনেকের পাশাপাশি অ্যামাজন বিটের প্রতিবেদক ক্যারোলাইন ও’ডনোভান এবং কায়রো ব্যুরো চিফ ক্লেয়ার পার্কার ছাঁটাই হচ্ছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিযুক্ত সব সম্পাদক ও সংবাদদাতা বেকার হয়ে পড়েছেন।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, তারা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কয়েকটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সে অনুযায়ী যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা দাবি করে, ব্যবসায়িক কারণেই এসব সিদ্ধান্ত।
আধুনিক যুগে সংবাদের উৎস হিসেবে ইন্টারনেটের উত্থানে অনেক প্রথাগত ও ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যম হিমশিম খাচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টও এর ব্যতিক্রম নয়
বিশ্লেষকদের মতে, পত্রিকাটি সাংবাদিকতার জগতে টিকে থাকতে একটি টেকসই বাণিজ্যিক মডেল তৈরি ও অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফোন কলে মারে বলেন, ‘এই উদ্যোগে সব বিভাগই কমবেশি প্রভাবিত হবে। রাজনীতি ও সরকার আমাদের সবচেয়ে বড় ডেস্ক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে
আগামীতে আমাদের কার্যক্রম ও পাঠক বৃদ্ধি উদ্যোগের কেন্দ্রে থাকবে ওই দুই ডেস্ক।’
‘ক্রীড়া বিভাগ আপাতত বন্ধ রাখা হবে’, যোগ করেন তিনি।
অ্যামাজন ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন ওয়াশিংটন পোস্ট গত বছরও বেশ কয়েকটি বিভাগে রদবদল ও ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছিল।
২০২৩ সালে পত্রিকাটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলার।
২০১৩ সালে পত্রিকাটি কিনে নেওয়ার সময় বেজোস কথা দিয়েছিলেন তিনি এর দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না।
তবে তিনি নিশ্চিত করেন, ‘কিছু পরিবর্তন আসবেই’।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পোস্টের কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে জেফ বেজোসের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে।
বিশেষত, প্রথা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সরাসরি সমর্থন না জানানোর সিদ্ধান্তে সাংবাদিকরা বেজোসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই নিন্দা জানান।
সে সময় সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে ভালো ভাবে নেয়নি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাতারাতি দুই লাখ ডিজিটাল গ্রাহক ওয়াশিংটন পোস্টের সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেন।
বেজোসকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে ‘ভালো আসনে’ বসার সুযোগ পান তিনি।
প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটন পোস্টে নিজের বিষয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের জেরে বেজোসের কড়া সমালোচনায় মেতেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে গত মার্চে ওই কোটিপতি উদ্যোক্তার ব্যাপক প্রশংসা করেন রিপাবলিকান নেতা। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন পোস্টকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছেন বেজোস।
তবে বেজোসের ২৪৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাটির জন্য তেমন কোনো সুখবর আনতে পারেনি।
আগামীতে স্বল্প পরিসরে সংবাদমাধ্যমটি কীভাবে এবং কতদিন টিকে থাকতে পারে, সেটা নিয়েই এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন হাজারো ভক্ত-পাঠক।


