যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রস্তাবিত চুক্তিতে যেসব শর্ত রাখা হয়েছে
অবশেষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত পরমাণু আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। তেহরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন ও তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র তেল আবিব। সেই আপত্তির জেরে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো দুই পক্ষ নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
এবার কাতার, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির জন্য একটি কাঠামো তৈরি করেছে। শুক্রবার ওমানের বৈঠকে এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।
তেহরান-ওয়াশিংটনের দরকষাকষি সংশ্লিষ্ট দুই সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
চুক্তির কেন্দ্রে থাকবে ইরানের পক্ষ থেকে তেজস্ক্রিয় উপকরণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগকে উল্লেখযোগ্য আকারে কমিয়ে আনার অঙ্গীকার।
অন্যান্য শর্তের মধ্যে আছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং ওই অঞ্চলে ইরানের মিত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ।
সূত্রদের মধ্যে একজন ইরানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তিনি নাম প্রকাশে অস্বীকার করেন।
প্রস্তাব মতে, টানা তিন বছর ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে বিরত থাকবে। এরপর থেকে সীমিত আকারে দেড় শতাংশের কম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে ইরানের হাতে আছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম। এই মজুদ ‘তৃতীয়’ কোনো দেশের হাতে তুলে দিতে হবে।
প্রস্তাবিত শর্তগুলো পরমাণু প্রকল্পের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব, ইরান চাইলেও ওই অঞ্চলে তাদের মিত্রদের কোনো ধরনের অস্ত্র বা প্রযুক্তি দিতে পারবে না। বিশেষত, ‘রাষ্ট্র নয়’ এমন মিত্র।
বলাই বাহুল্য, এর মাধ্যমে হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুতি বিদ্রোহীদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
অপর শর্ত হলো, তেহরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, তারা কখনো তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, ইরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা কমাতে হবে।
পাশাপাশি, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ‘আগ্রাসন-অব্যাহতি’ চুক্তির প্রস্তাব রাখবেন। ওই চুক্তিতে সই করলে দুই দেশে একে অপরের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ দেখাতে পারবে না।
তবে এসব প্রস্তাবে ওয়াশিংটন বা তেহরান কোনো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কী না, তা জানা যায়নি।

