কংগ্রেসের জেরায় ‘নিশ্চুপ’ এপস্টিনের বান্ধবী গিলেইন
প্রয়াত যৌন নিপীড়ক ও বিনিয়োগকারী জেফরি এপস্টিনের দীর্ঘদিনের বান্ধবী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলকে জেরা করেছে মার্কিন পার্লামেন্টের একটি কমিটি।
তবে ওই জেরায় কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী গিলেইন
গতকাল সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
মার্কিন পার্লামেন্টের প্রতিনিধি পরিষদের পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যরা সোমবার ভিডিও লিংকের মাধ্যমে গিলেইনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় সেখানে গণমাধ্যমের কোনো প্রতিনিধি বা বাইরের কোনো মানুষ উপস্থিত ছিলেন না।
তবে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির ‘রুদ্ধদ্বার জেরায়’ কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি এপস্টিনের বান্ধবী গিলেইন। মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে পাওয়া অধিকার খাঁটিয়ে নিশ্চুপ থেকে যান তিনি।
কমিটির সদস্যরা সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিলেও গিলেইন ইঙ্গিত দেন, সাধারণ ক্ষমা পেলে তিনি চলমান তদন্তে সহায়তা করতে পারেন।
২০২১ সালে যৌন নিপীড়নের অপরাধে এপস্টিনের সহযোগী হিসেবে ২০ বছরের কারাদণ্ড পান গিলেইন।
কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতা জেমস কোমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটা খুবই হতাশাজনক।’
‘তিনি ও এপস্টিন যেসব অপরাধে যুক্ত ছিলেন, সেগুলোর বিষয়ে আমাদের অনেক প্রশ্ন ছিল
পাশাপাশি, তাদের সহযোগীদের নিয়েও আমাদের অনেক কিছু জানার ছিল’, যোগ করেন তিনি।
এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য গিলেইনকে কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার সমন জারি করা হয়।
তবে তার আইনজীবীরা আগেই নিশ্চিত করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে তাকে ‘ক্ষমা’ করলেই কেবল তিনি সাক্ষ্য দেবেন।
রুদ্ধদ্বার জেরার একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।
সেখানে গিলেইনকে কারাগারের বাদামী পোশাকে দেখা যায়। এ সময় তিনি একটি কনফারেন্স টেবিলের সামনে বসে ছিলেন। তার সামনে ছিল একটি পানির বোতল।
ভিডিওতে তাকে বারবার ‘আমি পঞ্চম সংশোধনীর বলে পাওয়া নীরবতার অধিকার প্রয়োগ করছি’।
গিলেইনের আইনজীবী ডেভিড অস্কার মার্কাস কমিটির কাছে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি গিলেইনকে ক্ষমা করে দেন, তাহলে তিনি কোনো রাখঢাক না করে, সততার সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত আছেন।’
ওই আইনজীবী আরও জানান, ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন উভয়ই ‘নির্দোষ এবং কোনো অন্যায় করেননি’।
‘তবে এ বিষয়টি শুধু গিলেনই ব্যাখা করতে পারবেন এবং জনসাধারণের ওই ব্যাখ্যা জানার অধিকার আছে’, বলেন তিনি।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টিনের অপরাধের তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাখো নথি প্রকাশ করে। এসব নথিতে ৯০ এর দশকে এবং ২০০০ এর শুরুর দিকে ক্লিনটন ও ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আসেনি।
এ মাসের পরবর্তী অংশে বিল ও হিলারি ক্লিনটনও একই কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেবেন। ক্লিনটন দম্পতি জনসম্মুখে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে বিষয়টি নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা না থাকে।
এপস্টিনের সঙ্গে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী মানুষের আলাপ-পরিচয় থাকলেও এখন পর্যন্ত তার সহযোগী হিসেবে শুধু গিলেনই শাস্তি পেয়েছেন।
তবে এপস্টিন-কাণ্ডের জেরে অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। কেউ লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন, কেউ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
