গাজা শান্তিরক্ষা মিশনে ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি ইন্দোনেশিয়ার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনার’ অংশ হিসেবে গাজা শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া।
আজ মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার সেনা প্রধান জেনারেল মারুলি সিম্যানজুনতাক এ ঘোষণা দেন।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইন্দোনেশিয়ার শান্তিরক্ষী মোতায়েন হবে ঐতিহাসিক। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম কোনো বিদেশি বাহিনী সেখানে অবস্থান নেবে।
তবে গাজায় বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিম দেশের সরাসরি সম্পৃক্ততা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে গার্ডিয়ান।
সেনা প্রধান মারুলি জানান, পাঁচ থেকে আট হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনার রয়েছে তাদের। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
গাজায় ইন্দোনেশিয়ার সেনা বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে মারুলি বলেন, ‘শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করতে পারে এমন সদস্যদের আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রকৌশল ও চিকিৎসা ইউনিটও প্রস্তুত করছি।’
ইসরায়েলি পাবলিক রেডিও জানায়, দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী এলাকায় ইন্দোনেশীয় বাহিনীর জন্য ব্যারাক স্থাপন করা হচ্ছে।
গার্ডিয়ান জানায়, গাজায় কোনো মুসলিম দেশের বড় সংখ্যক সেনা মোতায়েনের পক্ষে নয় ইসরায়েল। একে সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রগতি হিসেবে দেখে দেশটি।
গত বছর সেপ্টেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) সম্পর্কে ধারণা দেন। তবে তাদের ভূমিকা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। আগামী বৃহস্পতিবার বোর্ডের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হওয়ার কথা।
ইন্দোনেশিয়ার সংবাদ মাধ্যম জাকার্তা গ্লোবে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বাড়াতে চান।
তবে গাজা শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়া ইন্দোনেশিয়ার জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মনে করছে সংবাদ মাধ্যমটি।