শীতকালীন ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জরুরি অবস্থা
শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্কুল বন্ধ, হাজারো ফ্লাইট বাতিল এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ভারী তুষারপাত ও প্রবল বাতাসে ভ্রমণ ও জনজীবনে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে অফিস ও পরিবহনব্যবস্থা জরুরি সময়সূচিতে পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা ভারী তুষারপাত, প্রবল বাতাস ও বিপজ্জনক যাতায়াত পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
ওয়াশিংটন থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে ভ্রমণব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ জানিয়েছে, আবহাওয়ার কারণে ডাক ও পার্সেল পরিবহন ও বিতরণে বিলম্ব হতে পারে।
রয়টার্স জানায়, নিউ ইয়র্কসিটিতে ঐতিহ্যগত ‘স্নো ডে’ ঘোষণা করে সব সরকারি স্কুল ভবন বন্ধ রাখা হয়েছে। অনলাইন ক্লাস ও স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রমও বাতিল করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় যানবাহন সড়কে না আনার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যেক নিউ ইয়র্কবাসীকে অনুরোধ করছি, দয়া করে বাড়িতে থাকুন।’ তুষার অপসারণকারী যান ও জরুরি সেবার সুবিধার্থে সড়ক ফাঁকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১৭ সালের পর এই প্রথম শহরটিতে তুষারঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, লং আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক সিটি ও লোয়ার হাডসন ভ্যালিতে সহায়তার জন্য ১০০ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ঝড়ের কারণে সোমবার ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদরদপ্তর কমপ্লেক্সও বন্ধ রাখা হয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় দুই ফুট পর্যন্ত তুষারপাত এবং ঘণ্টায় ৭০ মাইল গতির ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এতে গাছ উপড়ে পড়া ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অর্থায়ন ঘাটতি সত্ত্বেও ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির দুর্যোগ-প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।