ইরানে হামলা ৪ সপ্তাহ চলতে পারে: ট্রাম্প

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

ইতোমধ্যে উড়োজাহাজ চলাচল ও তেল বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন যে যুদ্ধ কয়েকদিন চলতে পারে। তবে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলেও জানা গেছে।

এক পৃথক সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরানে হামলা ৪ সপ্তাহ চলতে পারে।

‘এটি ৪ সপ্তাহের কাজ। আমরা ৪ সপ্তাহের মতো সময় লাগার কথা বিবেচনায় রেখেছি। আয়তনের দিক থেকে ইরান অনেক বড় দেশ। সেখানে ৪ সপ্তাহ বা কিছুটা কম সময় লাগতে পারে,’ যোগ করেন ট্রাম্প।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক এক্স বার্তায় জানান যে, তার দেশের সেনারা ইরানের পুব ও পশ্চিমে মার্কিন বাহিনীর ‘পরাজয়ের ব্যবস্থা’ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা এই হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতি-হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গতকাল রয়টার্সের অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনাবহিনীর সদরদপ্তর পেন্টাগন দেশটির আইনসভা কংগ্রেসকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান প্রথম আঘাত করবে—এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত তারা পায়নি।

এতে আরও বলা হয়, গতকাল রোববার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানতে পারে যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার পরিকল্পনা করছে এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে ছিল না।

কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। ইরানের কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। এবং ইরানে ১ হাজারের বেশি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে।

তারা একদিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোয় ইরান হামলা চালাতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন।

এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প চুপচাপ বসে থাকবেন না। তিনি মার্কিন সেনাদের ওপর কোনো হামলা সহ্য করবেন না।

ওমানের মধ্যস্থতায় যখন ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছিল তখন যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়ায় বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন বলেও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না দেখিয়েই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এদিকে, কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, মার্কিন গোয়েন্দাদের ভাষ্য—ইরান যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করতে পারে এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল না। এটি বাড়িয়ে বলা হতে পারে।