ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা কেন ভারতের জন্য অস্বস্তির
আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার নয়াদিল্লির জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। কারণ জাহাজটি ভারতীয় বন্দর থেকে যৌথ নৌ-মহড়া শেষ করে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ধ্বংস করা হয়।
সিএনএন জানায়, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাহাজটিকে ‘আইআরআইএস ডেনা’ বলে শনাক্ত করেছেন। ফ্রিগেটটি ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি বন্দর থেকে নিজ দেশে ফিরছিল, যেখানে গত মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিল।
এ ঘটনায় ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে এই হামলা হয়। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকেই টানা ছয় দিন ধরে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
সিএনএন বলছে, ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথমবার মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে।
ভারতের সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া চলাকালে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’। ছবি: এপির সৌজন্যে
ভারতের জন্য কেন অস্বস্তির
এই হামলা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটলেও নয়াদিল্লির জন্য তা অস্বস্তিকর হতে পারে। কারণ হামলাটি এমন এক সমুদ্রাঞ্চলে ঘটেছে, যাকে ভারত তার নিজস্ব প্রভাব বলয়ের অংশ বলে মনে করে এবং এর আগে ভারত ওই জাহাজের নাবিকদের অভ্যর্থনা জানিয়েছিল।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক সুশান্ত সিং বলেন,
‘ভারতের জলসীমা ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইআরআইএস ডেনাকে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা নয়াদিল্লির আঞ্চলিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি বড় ধাক্কা।’
তিনি বলেন, ‘জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকলেও সেটি ভারতের নৌ-মহড়া থেকে ফিরছিল এমন একটি এলাকা দিয়ে যা কোনো সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র নয় এবং যে এলাকাটি নিশ্চিতভাবেই ভারতের প্রভাব বলয়ের আওতায় পড়ে।’
এ কারণেই ঘটনাটি একটি গুরুতর ‘রেড লাইন ক্রস করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুশান্ত সিং আরও বলেন, ‘বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট সুরক্ষা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়া এড়ানো এবং নিজস্ব সামুদ্রিক সীমানার কাছাকাছি তৃতীয় পক্ষের সামরিক পদক্ষেপকে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে না দেওয়া ভারতের জন্য অপরিবর্তনীয় অগ্রাধিকার।’
তবে মার্কিন নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপ এসব অগ্রাধিকারের প্রতিটিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সিএনএনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।