হরমুজ প্রণালিকে মাসের পর মাস ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ করে রাখতে পারে ইরান
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় বিপর্যস্ত ইরান। তবে দেশটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে পারস্য উপসাগরে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বেশ কয়েক মাস বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক গোয়েন্দারা।
ইরান তার বহুল আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কতদিন হামলা চালিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তারা।
গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আচমকা ইরানে হামলার পর থেকে তেহরান কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১ হাজারের বেশি ড্রোন উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলো দিকে ছোড়ে। সেগুলোর অধিকাংশ আকাশে ধ্বংস করা হলেও কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় আঘাত হানে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলেন্স ইরানকে শীর্ষ ড্রোন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা তেহরানের আছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে বিশ্লেষকদের ভিন্ন ভিন্ন মত আছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হিসাবে সেই সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ হতে পারে। অন্য বিশ্লেষকদের মতে, সেই সংখ্যা ৬ হাজারের কাছাকাছি।
তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় সেসব সমরাস্ত্র কতদিন অটুট থাকবে তা অনিশ্চিত।
ইরান ও ওমানের মাঝখানে লক্ষ্য হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অঞ্চলটি বন্ধ করে দেওয়া তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়।
হরমুজ প্রণালিতে ৬টি জাহাজে ইরানিদের হামলার পর সেখান নিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম ১২ শতাংশ ও ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রধান বব ম্যাকন্যালি বার্তা সংস্থাটিকে বলেছেন, ‘ইরান এখুনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চাচ্ছে না। তারা সেই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখতে চায়।
তার মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হচ্ছে হরমুজ প্রণালির জন্য হুমকি হতে পারে ইরানের এমন সব সমরাস্ত্র ধ্বংস করা। তবে ইরান দেখাতে চাইবে যে তারা কয়েকটি ট্যাংকারে হামলা চালাতে পারে।’
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যদি ফুরিয়ে যায় তাহলে ইরান জল-মাইন ব্যবহার করতে পারে। তেহরানের কাছে ৫ থেকে ৬ হাজারের মতো মাইন আছে বলে জানিয়েছে একটি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান।
