ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম
গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম ওঠার পর আজ মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরপরই তেলের দাম কমে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১৭ ডলার বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৩ দশমিক ৮১ ডলার বা ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ৯৬ ডলার হয়েছে।
এর আগে, গতকাল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছিল। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল—সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের সরবরাহ কমানো এবং মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের ব্যাপকতার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার ভয়।
পরবর্তীতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন এবং ইরান যুদ্ধ দ্রুত সমাধানের প্রস্তাব দেন। দুই নেতার এই কথোপকথনে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ কমার ভয় কিছুটা কমে আসে। ফলে তেলের দামও কিছুটা কমে।
ট্রাম্প সোমবার সিবিএস নিউজকে জানান, তিনি মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘খুবই দ্রুত শেষ হবে’ এবং ওয়াশিংটন আগের অনুমান করা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের সময়সীমার চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে।
ডিবিএস ব্যাংকের এনার্জি সেক্টরের টিম প্রধান শুভ্র সরকার বলেন, ‘ট্রাম্পের মন্তব্যে বাজার শান্ত হয়েছে। যদিও গতকাল দাম বেশি ওঠা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া ছিল। আজ কিছুটা কমে যাওয়াও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের মূল তেলের দাম এখনও ১০০ ডলারের ওপরে, তাই বাস্তব পরিস্থিতিতে খুব পরিবর্তন হয়নি।’
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘যুদ্ধের শেষ নির্ধারণ করবে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে কোনো তেল রপ্তানি হবে না।