মধ্যপ্রাচ্যে আড়াই হাজার নৌসেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও আড়াই হাজার নৌসেনা (মেরিন) ও উভচর যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে হরমুজ প্রণালি সচল করতে সেনা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমানোর প্রচেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে যুদ্ধে আটকে থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। এর আগে একইভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল ওয়াশিংটন।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৫০০ নৌসেনার পাশাপাশি উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস বক্সার’ এবং আরও কিছু যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রয়টার্সের তথ্যমতে, ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল বা খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরান ও মধ্য ইরানে দুই দফায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করা হয়েছে। জবাবে ইরানও তেল আবিব ও জেরুজালেম লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। জেরুজালেমের ওল্ড সিটির কাছে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ, তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলো সহায়তা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি তাদের ‘কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেছেন। ব্রিটেন তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও জার্মানি ও ফ্রান্স জানিয়েছে, আগে যুদ্ধ বন্ধ হতে হবে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের স্থল যুদ্ধ শুরু করবেন। তবে মাত্র ৭ শতাংশ নাগরিক এমন পদক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন।