ইসরায়েলের দুই শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত শতাধিক

স্টার অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার আরাদ ও ডিমোনা শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। 

ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আবাসিক ভবনগুলোর সম্মুখভাগ বিধ্বস্ত হয়েছে ও মাটিতে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আরাদ শহরে তিনটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটিতে আগুন ধরে গেছে।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের আরাদ শহরেই আহত হয়েছেন ৮৪ জন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পার্শ্ববর্তী ডিমোনা শহরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরও ৩৩ জন আহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ডিমোনা শহরে যেখানে ইসরায়েলের একটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে, সেখানে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে সম্প্রতি চালানো ইসরায়েলি হামলার ‘জবাব’ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান।

এএফপির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আরাদ শহরে উদ্ধারকারীরা একটি বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের খুঁজছেন। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও জরুরি সেবা সংস্থার অসংখ্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কেন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে পারল না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে লিখেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে পারেনি। আমরা এই ঘটনা তদন্ত করব ও এ থেকে শিক্ষা নেব।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আরাদ শহরে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও একটিতে আগুন ধরে গেছে।

আরাদ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ডিমোনা শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। এএফপিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, মাটির ওপর একটি বিশাল গর্ত এবং চারপাশে ধ্বংসস্তূপ ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব পাত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আশপাশের ভবনগুলোর জানালা ভেঙে গেছে এবং সামনের দিকটা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডিমোনায় ৩৩ জন আহত হয়েছেন, এর মধ্যে স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর আহত একটি শিশুও আছে। 

ডিমোনাতে ইসরায়েলের সেই পারমাণবিক স্থাপনাটি অবস্থিত যা মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রাগার বলে ধারণা করা হয়। তবে ইসরায়েল কখনো তা স্বীকার করেনি।

এই হামলার পর নিরাপত্তা বিবেচনায় ইসরায়েলের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বাতিল করে অনলাইনে পাঠদানের নির্দেশ দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আসছে। 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত কঠিন একটি সন্ধ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইরান ও তার মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।