রণাঙ্গন থেকে মাকে লেখা চিঠি

আহমাদ ইশতিয়াক
আহমাদ ইশতিয়াক

‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই’—কবি কাদের নেওয়াজের লেখা হৃদয়স্পর্শী ‘মা’ কবিতাটি পড়তে গেলে যে কারোরই হৃদয় ছলছল করে ওঠে। সন্তানেরাও তেমনই মায়ের নাড়িছেঁড়া ধন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অকুতোভয় সব মায়েরা নিজের নাড়িছেঁড়া ধনকে মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে বিসর্জন দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি।

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে দাঁড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তাদের মায়েরা ছিলেন অনুপ্রেরণার এক অনন্য উৎস।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রণাঙ্গন থেকে অনেক মুক্তিযোদ্ধাই মাকে চিঠি লিখেছিলেন, এর মধ্যে রয়েছেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধারাও। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে দুই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মাকে লেখা চিঠি তুলে আনা হলো।

শহীদ আলমগীর করিম বীর প্রতীক। ছবি: সংগৃহীত

একাত্তরের ১০ জুন ভারতের আগরতলার তিতাস ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে মাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর করিম বীর প্রতীক। চিঠিটি লেখার চার মাস পরে অক্টোবর মাসের এক যুদ্ধে শহীদ হন তিনি। চিঠির ভাষ্যটি এমন—

শ্রদ্ধেয় আম্মা,

আমার শতকোটি সালাম জানবেন। আব্বা ও ভাইকেও আমার সালাম বলবেন। ছোটদের আমার স্নেহ ও ভালোবাসা জানাবেন। আম্মা, আপনাদের ভিনদেশের অজানা-অচেনা জায়গায় ফেলে রেখে চলে গেলাম বলে ভুল বুঝবেন না। আম্মা, আপনি তো জানেন যে ভাই যেমন রাজনীতি নিয়ে মাতামাতি করত, আমি তা করতাম না। রাজনীতি আমার ভালো লাগত না।

কিন্তু কী হলো জানি না, ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাত্রিতে পাক সেনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস আর পিলখানা ইপিআর ক্যাম্প ছাড়াও সারা ঢাকা শহরে যেভাবে গণহত্যা করেছে, মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, সে সব খবর আর ছবি দেখে আমার যেন কী হয়ে গেছে। আমি কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিলাম না।

আমার কেবলই মনে হচ্ছিল দেশমাতৃকা আমায় যেন ডাকছে। তার ডাকে সাড়া দিতেই এ পর্যন্ত চারবার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম লিখেও যুদ্ধে অংশ নিতে পারছিলাম না। বারবারই আব্বা তার বন্ধু বা পরিচিত নেতা কিংবা আর্মি অফিসারদের সহায়তায় আমার নাম কেটে দিচ্ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত

দেশের এ দুর্দিনে দেশের হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ যুবক মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আর আমি হতভাগা দেশের জন্য কিছুই করতে পারছি না। দেশের এ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার কোনোই অবদান থাকবে না—এ আমি ভাবতেই পারি না। দেশবাসীকে আমি মুখ দেখাব কীভাবে?

এ ব্যর্থতার শান্তি পাব কী দিয়ে? তাই বাধ্য হয়েই আপনাদের অজান্তে মুক্তিযুদ্ধে নাম লিখিয়ে ভারতের কোনো এক অজানা স্থানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য চলে গেলাম।

প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে এসে রণাঙ্গনে যাওয়ার পূর্বে যদি সম্ভব হয় তবে দেখা হবে। নয়তো বেঁচে থাকলে যুদ্ধ শেষে অবশ্যই দেখা হবে। আমার জন্য দোয়া করবেন।

আম্মা, দেশের মাটি যাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাকে ধরে রাখা যায়? তাই আপনাদের সালাম করেও যেতে পারলাম না বলে মনটা বড়ই কাঁদছে। এ জন্য আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।

আমার জন্য ও দেশের সকল মুক্তিকামী জনতার জন্য দোয়া করবেন, যাতে দেশমাতৃকার এ দুর্দশা ঘুচিয়ে দেশকে হানাদারমুক্ত করে বীরবেশে দেশে ফিরে আসতে পারি।

খোদা হাফেজ।

ইতি

আপনার প্রিয় আলমগীর

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর করিমের এই শেষ চিঠিটি তার মা হাতে পেলেও মায়ের বুকে ফিরে যেতে পারেননি আলমগীর।

যুদ্ধের আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে পড়তেন ১৯ বছর বয়সী আলমগীর করিম। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তিনবার মুক্তিযোদ্ধা নির্বাচনে নাম দিলেও বাবা-মায়ের তীব্র আপত্তির কারণে যুদ্ধে যেতে পারেননি। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন।

৫ থেকে ৭ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার শিমরাইল এলাকায় আলমগীর করিমসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধের মধ্যে দুই পক্ষই একবার এগিয়ে গেলেও পরক্ষণেই পিছিয়ে পড়ে। শেষপর্যন্ত ৭ নভেম্বর পাকিস্তানিরা পিছু হটে।

বিজয় নিশ্চিত জেনে মুক্তিযোদ্ধারা উল্লাসে মেতে ওঠেন। এই সুযোগে পাকিস্তানিরা গোলাবারুদ মজুত করে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা চালায়। তুমুল যুদ্ধের মধ্যেই আলমগীরসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা একপাশে সুযোগ বুঝে অ্যামবুশের ফাঁদও গড়েন।

পাকিস্তানিরা তাদের উপস্থিতি টের না পেয়ে যখনই অ্যামবুশের অবস্থানে ঢুকে পড়ে, তখনই গুলি শুরু করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ সময় বেশিরভাগ পাকিস্তানি সেনাই নিহত হয়। বাকিরা পালাতে শুরু করে। পাকিস্তানি সেনারা অস্ত্রবোঝাই দুটি নৌকাও ফেলে যায়।

এমন সময় আলমগীর করিম অস্ত্রবোঝাই একটি নৌকা থেকে অস্ত্র নেওয়া শুরু করেন। পলায়নরত পাকিস্তানি সেনারা এ সময় গুলি করতে থাকায় তাদের ছোড়া একটি গুলি আলমগীর করিমের বুকে এসে লাগে। আলমগীরের সঙ্গে ছিলেন সিদ্দিকসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। এ সময় সিদ্দিক তাকে পিঠে করে পাশের একটি গ্রামের দিকে রওনা হন, কিন্তু তখন আলমগীর করিমের প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই আলমগীর তার সহযোদ্ধাদের বলেছিলেন, যদি তিনি মারা যান, তাহলে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে যেন তার মাকে তার শহীদ হওয়ার খবর না জানানো হয়। তখন পাশের গ্রামে একজন সেবিকাও পাওয়া গেল। কিন্তু তার কাছে নিয়ে যাওয়ার মধ্যেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আলমগীর করিম নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

সেদিন সেই গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ আলমগীর করিমকে রক্ত দিতেও প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সে সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় রক্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে আলমগীর করিমকে ভারতের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সহযোদ্ধারা।

কিন্তু পথিমধ্যেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আলমগীর করিম। পরবর্তীতে তাকে শিমরাইল স্কুল মাঠে দাফন করা হয়।

যুদ্ধের মধ্যে আর আলমগীর করিমের সহযোদ্ধারা তার বাবা-মাকে তাদের সন্তানের শহীদ হওয়ার খবর দেননি। বিজয়ের পর আলমগীর করিমের বাবা-মায়ের কাছে গিয়েছিলেন সহযোদ্ধারা। শহীদ হওয়ার খবর বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তারা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আলমগীর করিমের একটি আংটি ও ব্যবহার্য কাপড়চোপড়।

শহীদ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট সেলিম কামরুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধে আলমগীর করিমের মতো আরেক দুঃসাহসিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট সেলিম কামরুল হাসান।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ রণাঙ্গনখ্যাত ঢাকার বিহারীদের কাছ থেকে মিরপুরকে মুক্ত করার যুদ্ধে ৩০ জানুয়ারি শহীদ হয়েছিলেন তিনি।

রণাঙ্গন থেকে মা সালেমা খাতুনকে দুটি চিঠি লিখেছিলেন সেলিম কামরুল হাসান। একটি চিঠি একাত্তরের ১৮ অক্টোবরে, অন্যটি ৩০ নভেম্বর লেখা।

(এটি বাংলাদেশের সরকারের কাছে পৌঁছে দিও।)
১৮/১০/৭১

মাগো, অনেক দিন পর তোমার কাছে কিছু লেখার সময় হলো। মা, তিন মাস ফ্রন্টে থাকার পর ট্রেনিংয়ে গিয়েছিলাম, আবার সেই একই ফ্রন্টে ফিরে এলাম। ট্রেনিংয়ে থাকার সময় প্রত্যেকটি রাত্রে তোমার কথা ভাবতাম, বিশেষভাবে সেই তারাভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে। মনে হতো সেই একই আকাশ, কিন্তু মা তোমার সঙ্গে কত দূরত্ব। মাগো, ছয় মাসের বেশি তোমার মুখ দেখি না। যখন তুমি আমাদের বিদায় দিলে, আমার শুধু সেই দিনটার কথাই মনে পড়ে যখন তোমার কথা ভাবি। তোমাকে ও বাবাকে ছেড়ে আসতে আমারও কষ্ট হচ্ছিল, তাই গেট থেকে বেরিয়ে আর পেছন ফিরে তাকাইনি।

ছবি: সংগৃহীত

আজকের এই দিনে নতুন সেক্টরে ফিরে আসার দিনে, আমার নতুন দায়িত্ব নিতে আসার দিনে তোমার আশীর্বাদ চাই। যেমন তুমি বলেছিলে, শিগগিরই তোদের সঙ্গে দেখা হবে সেই স্বাধীন দেশে—সেই দিনটা যেন জলদি আসে, সেই আশীর্বাদ কোরো। আমার প্রাণ দিয়েও যেন আমার দায়িত্ব পালন করতে পারি। আশীর্বাদ কোরো।

সেলিম

ঐতিহাসিক বিলোনিয়া যুদ্ধে জয়লাভ করার পরে একাত্তরের ৩০ নভেম্বর মাকে আরেকটি চিঠি লিখেছিলেন সেলিম কামরুল হাসান। সেই চিঠিটি ছিল এমন—

মা,

পহেলা নভেম্বর নোয়াখালীতে যাওয়ার হুকুম হলো। ফেনীর বিলোনিয়া ও পরশুরাম মুক্ত করার জন্য। ৬ নভেম্বর রাতে চুপিচুপি শত্রু এলাকার অনন্তপুরে ঢুকলাম। পরদিন সকালে ওরা দেখল, ওদেরকেও আমরা ঘিরে ফেলেছি। ৮ নভেম্বর রাতে ওই জায়গা সম্পূর্ণ মুক্ত হলো।

ছবি: সংগৃহীত

শত্রুরা ভয়ে আরও কিছু ঘাঁটি ফেলে পালিয়ে গেল। পরদিন চিথলিয়া আমরা বিনাযুদ্ধে মুক্ত করলাম। আস্তে আস্তে আরও এগিয়ে গেলাম। ২৭ নভেম্বর যখন আমরা ওই এলাকা থেকে ফিরে এলাম, তখন আমরা ফেনী মহকুমা শহর থেকে দেড় মাইল দূরে ছিলাম। পাঠাননগর ছিল আমাদের অগ্রবর্তী ঘাঁটি। শিগগিরই মাগো আবার তোমার সঙ্গে দেখা করতে পারব ভেবে মনটা আনন্দে ভরে গেল।

জানো মা, এই যুদ্ধে আমরা ৬০ জন শত্রু ধরেছি। আমাদের কোম্পানির তিনজন শহীদ ও একজনের পা মাইনে উড়ে গেছে। দোয়া কোরো মা।

সেলিম

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পর মায়ের বুকে ফিরে এসেছিলেন দুই ভাই সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট সেলিম কামরুল হাসান ও সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট ডা. এম এ হাসান। এর কিছুদিনের মাথায় লেফটেন্যান্ট সেলিমকে রাষ্ট্রপতির গার্ড কমান্ডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক মেজর মঈনুল হাসান চৌধুরী লেফটেন্যান্ট সেলিমের কোম্পানিকে মিরপুর মুক্তকরণের লড়াইয়ে নিয়ে যান। বিহারীদের কাছ থেকে মিরপুর মুক্তকরণের সেই যুদ্ধেই শহীদ হন লেফটেন্যান্ট সেলিম কামরুল হাসান।

বড় ছেলেকে হারানোর আঘাত বিদীর্ণ করে দিয়েছিল শহীদ জননী সালেমা বেগমের বুক। ডায়েরিতে শহীদ সন্তানের কথা লিখতে গিয়ে সালেমা বেগম লিখেছেন, ‘হারিয়ে গেল আমার সেলিম। এক নির্ভীক বীর। নয় মাস দেশের বিভিন্ন রণাঙ্গনে মরণপণ যুদ্ধ করে বিজয়ীর বেশে ফিরে এসেছিল সে। তারপর স্বাধীন বাংলার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য শত্রুর শেষ ঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য নিজের সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে তুচ্ছ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মিরপুরে।

শহীদ জননী সালেমা বেগম। ছবি: সংগৃহীত

রণক্লান্ত সেলিম আজও ঘুমিয়ে আছে মিরপুরেরই বুকে। ও পিছু হটতে জানত না। সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে নিজে মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছে, সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু স্বার্থপরের মতো নিজে বাঁচার চেষ্টা করেনি। তাই তো সেলিম সত্যিকারের বীর, এক মহান যোদ্ধা।’

ডায়েরির আরেক জায়গায় সালেমা বেগম লিখেছেন, ‘মিরপুরের মাটি শত্রুমুক্ত হলো সেলিমের রক্তে ভিজে। সেখানকার মাটিতে মিশে রইল ওর পবিত্র রক্তমাখা দেহ। সরকারের শেষ দায়িত্ব পালন করে, অত্যন্ত কর্তব্যের সঙ্গেই পালন করে, মিরপুর মুক্ত করল। আর আমি এক অভাগিনী মা। গাজী সেলিমের মা থেকে শহীদ সেলিমের মা হয়ে গেলাম। কিন্তু যাকে আমি তেইশ বছর বুকের আদরে, স্নেহে, ভালোবাসায় বড় করেছি, সে কী করে হারিয়ে যেতে পারে?

সত্যিই কি সেলিম আর কোনো দিন মা বলে আমাকে ডাকবে না, গলা জড়িয়ে ধরবে না, আমার কাপড়ের আঁচলে মুখ মুছবে না? সেই সুঠামদেহী যুবক সুন্দর মুখের স্মিত হাসি দিয়ে ‘মাগো’ বলবে না! ওর পায়ের ধুলো কি এই বাংলার কোনোখানে আর কোনো দিন পড়বে না—আর ভাবতে পারি না। মনে হয় সবকিছু মিথ্যে। আমি শুধুই কল্পনা করে চলেছি। কিন্তু সত্য যে বড় কঠিন।’

নিজের বড় ছেলে সেলিমকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন মা সালেমা বেগম। মিরপুরের শেষ যুদ্ধে ছেলেকে হারানোর পর আমৃত্যু বিছানায় না ঘুমিয়ে মাটিতে ঘুমাতেন সালেমা বেগম।

চিঠির সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ডা. এম এ হাসান

অবরুদ্ধ দেশ: অনিকেত জীবন/ডা. এম এ হাসান