মার্কিন আদালতে মাদুরোর বিচার নিয়ে যে জটিলতা
ভেনেজুয়েলার অপসারিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার মাদুরো আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচারের অভিযোগ খারিজের আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের এক আকস্মিক অভিযানে স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসসহ আটক হওয়ার দুই মাসেরও বেশি সময় পর এই শুনানি হচ্ছে। দুজনই বর্তমানে ব্রুকলিনে আটক আছেন।
মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদ ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিচার পর্যন্ত নিজেদের নির্দোষ দাবি করছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মামলার আইনি খরচ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা সরকার তাদের আইনি ব্যয় বহন করতে পারছে না। মাদুরোর পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনী অনুযায়ী নিজেদের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তাদের দাবি, ব্যক্তিগতভাবেও এই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।
মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোলাক বলেছেন, আদালত অভিযোগ খারিজ না করলে এবং তার ফি পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা না থাকলে তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে তার পারিশ্রমিকের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, প্রসিকিউটররা এই যুক্তি নাকচ করেছেন। তাদের বক্তব্য, ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে তিনি বা তার স্ত্রী ভেনেজুয়েলার সরকারি তহবিল ব্যবহার করে আইনি খরচ মেটানোর দাবি করতে পারেন না।
প্রসিকিউটররা আরও বলেন, তারা চাইলে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী পেতে পারেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে তাদের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো ও ফ্লোরেসকে অপহরণ করে আনা হয়। পরে তাদের নিউইয়র্কে এনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় আনে।