যুদ্ধে ঘরছাড়া মানুষ, অপেক্ষায় প্রিয় পোষা প্রাণীরা
‘আমাকে নিলে না কেন?’—খাঁচায় বন্দি আদুরে বিড়ালটি যদি মানুষের মতো কথা বলতে পারত, তাহলে হয়ত এমন প্রশ্নই করত। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে তাকে ফেলে রেখে চলে গেছে ঘরের লোকজন।
রাস্তায় বের হয়ে যাওয়া বিড়ালটিকে কেউ এনে আপাতত খাঁচায় আশ্রয় দিয়েছে।

এক খাঁচায় বন্দি আরও অনেক বিড়াল। সবাই যেন উৎসুক চোখে খুঁজছে তাদের ঘরের প্রিয় মানুষদের।
আরেক খাঁচায় ছোট্ট একটি কুকুর ভয়ে কুঁকড়ে আছে। অন্য এক খাঁচায় রয়েছে খরগোশও।
ওমানের মাস্কাটে প্রাণীদের একটি ক্লিনিকের প্রায় পুরোটাই এখন ভর্তি এমন অসংখ্য কুকুর-বিড়ালে। এদের অধিকাংশকেই রাস্তা থেকে আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে নীরবে অসহায় হয়ে পড়া এসব পোষা প্রাণীরা অপেক্ষায় আছে কখন তাদের খাঁচা থেকে ঘরে নেওয়া হবে।

যুদ্ধের তীব্রতায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন অনেক মানুষ। যাওয়ার সময় অনেকেই তাদের আদরের পোষা প্রাণীদের ফেলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অসংখ্য মানুষের চলে যাওয়ার কারণে মাস্কাটের স্থানীয় পশু হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো এখন আশ্রয়হীন প্রাণীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা এপির ভিডিও প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব বোবা প্রাণীদের কথা।
মাস্কাটের প্রাণী চিকিৎসক ডা. শেরিফ শাওকি এপিকে বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতির কারণে অনেক বিদেশি মাস্কাট ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এর একটা ভিন্ন প্রভাব পড়েছে। কেউ কেউ তাদের পোষা প্রাণী—বিড়াল, কুকুর বা খরগোশ আমাদের ক্লিনিকে রেখে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ ভবিষ্যতে তাদের প্রিয় প্রাণীকে আবার নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা করে গেলেও, অনেকেই পরিস্থিতির চাপে বা নিরুপায় হয়ে তাদের প্রিয় সঙ্গীদের রাস্তায় ফেলে গেছেন।’
দীর্ঘদিন মানুষের আদরে বড় হওয়া এসব প্রাণীদের রাস্তায় বেঁচে থাকার মতো ন্যূনতম কৌশল জানা নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ঘরহীন এসব প্রাণীরা চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

ডা. শেরিফ শাওকি বলেন, ‘এই প্রাণীরা রাস্তায় বা এভাবে থাকতে অভ্যস্ত নয়। তাদের একটি বাড়ি প্রয়োজন। আমরা তাদের দত্তক নেওয়ার জন্য মানুষ ও পরিবার খুঁজছি।’
যুদ্ধে কবে শেষ হবে, পুরোনো বাড়িতে আদৌ ফিরে যেতে পারবে কি না, কিংবা নতুন কোনো নিরাপদ ঘর পাবে কি না—এমন অনিশ্চয়তা শুধু মানুষের মাঝেই নয়, নীরব এই প্রাণীরাও তার শিকার।