ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে পাঠানোর’ হুমকি ট্রাম্পের, এর মানে কী?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে যুদ্ধ শেষের চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে ‘স্টোন এজ’ বা প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

আল জাজিরা বলছে, এই বাক্যটির অর্থ সাধারণত ব্যাপক বোমাবর্ষণ বা কার্পেট বম্বিং। যার লক্ষ্য একটি দেশের আধুনিক সভ্যতার সব অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া। অর্থাৎ হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, আকাশচুম্বী ভবন কিংবা পার্ক, কিছুই অক্ষত থাকবে না।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা বাস্তবায়িত হলে তা গণহত্যার শামিল হতে পারে। যেমনটি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল গাজায় আংশিকভাবে করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের একটি প্রাইমারি স্কুলে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এএফপি

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকি বা ব্যাপক বোমাবর্ষণের প্রবণতা নতুন নয়।

মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কার্টিস লেমে ‘স্টোন এজে পাঠিয়ে দেওয়া’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন বলে মনে করা হয়, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের বিভিন্ন শহর ধ্বংসের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেছিলেন।

১৯৫০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বাহিনী উত্তর কোরিয়ার ওপর ব্যাপক কার্পেট বোমাবর্ষণ চালায়। এতে দেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং ৮০ শতাংশের বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়।


গাজাকে কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। ছবি: রয়টার্স

পরবর্তীতে লেমে তার স্মৃতিকথায় ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও দেশটিকে ‘স্টোন এজে পাঠিয়ে দেওয়ার’ পক্ষে মত দেন। ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন উত্তর ভিয়েতনামে ব্যাপক বোমাবর্ষণের নির্দেশ দেন, যা ‘ক্রিসমাস বম্বিং’ নামে পরিচিত।

এ ছাড়া, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর পাকিস্তান যদি তালেবানবিরোধী যুদ্ধে যোগ না দেয়, তাহলে দেশটিকে ‘স্টোন এজে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, এমন দাবি করেছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ।