ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরানে কঠোর হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম সাত শতাংশ বেড়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ দশমিক ৩৪ ডলার বা ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৫ ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৯ দশমিক ২৩ ডলার বা ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৯ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে।
গত তিন সপ্তাহের মধ্যে আজই তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শুরুর দিকে তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল। সে সময় ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১১৯ ডলারে পৌঁছেছিল।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে আগামী আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানে কঠোর হামলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেননি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক উদ্যোগের কোনো ইঙ্গিত না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
সিঙ্গাপুরের আর্থিকপ্রতিষ্ঠান ফিলিপ নোভার সিনিয়র বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেব রয়টার্সকে বলেন, ‘উত্তেজনা বাড়লে বা সমুদ্রপথে ঝুঁকি বাড়লে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।’
বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজার সংশ্লিষ্টদের কয়েকজন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা দুবাইভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যের বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী নির্ধারিত তেলের চালান নিয়ে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছেন।
কারণ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালির ভেতরের বন্দরগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছেন।
দুবাইভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যের এই বেঞ্চমার্কটি বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের দাম নির্ধারণ করে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহ ব্যাহত হলে এপ্রিল থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করবে। যুদ্ধ শুরুর আগে করা চুক্তির কারণে এতদিন এই অঞ্চলটি তুলনামূলকভাবে প্রভাবমুক্ত ছিল।
এ অবস্থায় তেল উৎপাদন আরও বাড়ানোর বিষয়ে আগামী রোববার বৈঠকে বসবে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস।