যুক্তরাষ্ট্রের ‘উড়ন্ত দুর্গ’ ফেলে দিল ইরান, কী আছে সি-১৩০ সুপার হারকিউলিসে
ইরানে নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে পরিচালিত সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বহুমুখী পরিবহন বিমান সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব বিমান শত্রুপক্ষের হাতে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে নিজেদের পক্ষ থেকেই ধ্বংস করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন ঘিরে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
ইরানের দাবি: একাধিক বিমান ভূপাতিত
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, উদ্ধার অভিযানের সময় তারা একাধিক ‘শত্রু বিমান’ ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে দুটি সি-১৩০ মডেলের পরিবহন বিমান এবং কয়েকটি হেলিকপ্টারও রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা: নিজেদের হাতেই ধ্বংস
অন্যদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত বিশেষ সংস্করণের এমসি-১৩০জে কমান্ডো ২ বিমানগুলোর অন্তত দুটিকে মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানগুলো একটি অস্থায়ী এয়ারস্ট্রিপে অবতরণের পর অকার্যকর হয়ে পড়ে বা শত্রুপক্ষের দখলে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে সংবেদনশীল প্রযুক্তি রক্ষায় সেগুলো ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই ঘটনায় দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনী তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং কিছু এয়ারক্রাফট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পটভূমি: যেভাবে শুরু
ঘটনার সূত্রপাত একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ইরানে ভূপাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ওই বিমানের এক ক্রু সদস্য নিখোঁজ হলে তাকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ বাহিনী, হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান নিয়ে অভিযান চালায়।
‘উড়ন্ত দুর্গ’ বলা হয় কেন
সি-১৩০ সুপার হারকিউলিসকে অনেক সময় ‘উড়ন্ত দুর্গ’ বলা হয় এর বহুমুখী সক্ষমতার কারণে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে এটি দুর্গম ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের রানওয়েতে ওঠানামা করতে পারে, বড় আকারের সেনা, অস্ত্র ও সরঞ্জাম বহনে সক্ষম এবং বিশেষ অভিযানে দ্রুত মোতায়েন ও উদ্ধার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে এমসি-১৩০ ভ্যারিয়েন্টটি গোপন অভিযান, বিশেষ বাহিনী প্রবেশ ও উদ্ধার এবং হেলিকপ্টারে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মতো জটিল কাজে ব্যবহৃত হয়।
বিভ্রান্তির কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনায় দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি আসার পেছনে তথ্যযুদ্ধ বড় ভূমিকা রাখছে।
ইরান সামরিক সাফল্য দেখাতে বিমান ভূপাতিতের দাবি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ক্ষয়ক্ষতি সীমিত দেখাতে ‘সেল্ফ ডিস্ট্র্যাক্ট’ ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
ফলে প্রকৃতপক্ষে কতগুলো বিমান ধ্বংস হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানে নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের এই অভিযান শুধু সামরিক নয়, বরং তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবেও সামনে এসেছে। সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস ঘিরে বিপরীতমুখী দাবি চলমান সংঘাতের জটিল বাস্তবতাকেই তুলে ধরছে।
