ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি রাশিয়ার চেয়েও খারাপ: জরিপ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে বৈশ্বিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো অবনতি হয়েছে এবং বর্তমানে দেশটির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি রাশিয়ার চেয়েও নেতিবাচক। এমন তথ্য উঠে এসেছে আজ শুক্রবার প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক জরিপে।

গণতন্ত্রবিষয়ক এই বার্ষিক জরিপটি প্রকাশ করেছে ডেনমার্কভিত্তিক অ্যালায়েন্স অব ডেমোক্রেসি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি বলছে, কোন দেশকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয়—এমন প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়া ও ইসরায়েলের পর সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাম।

জরিপে বলা হয়, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বৈশ্বিক ইতিবাচক ধারণা নাটকীয়ভাবে কমেছে। ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্সে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা দুই বছর আগের প্লাস ২২ শতাংশ থেকে নেমে বর্তমানে মাইনাস ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তুলনায় রাশিয়ার অবস্থান মাইনাস ১১ শতাংশ এবং চীনের প্লাস ৭ শতাংশ।

জরিপটি পরিচালনা করেছে পোলিং প্রতিষ্ঠান নিরা ডেটা। গত ১৯ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৫টি দেশের ৪৬ হাজার ৬০০ জনের উত্তরের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের ভাবমূর্তি মূল্যায়ন করা হয়েছে।


নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সম্প্রতি এই ছবিটি পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ন্যাটো জোটের সাবেক মহাসচিব এবং অ্যালায়েন্স অব ডেমোক্রেসিস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ডারস ফগ রাসমুসেন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির দ্রুত অবনতি দুঃখজনক, তবে বিস্ময়কর নয়।’

তার মতে, গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি ব্যাপক শুল্ক আরোপ এবং ন্যাটো মিত্রের ভূখণ্ড দখলের হুমকিও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পুনঃপুন হুমকি, ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সহায়তা কমিয়ে দেওয়া এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ—এসব কারণে ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্ক গভীর চাপে পড়েছে।

এ ছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলো নৌবাহিনী পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন। পরে তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের কথাও বিবেচনা করছেন বলে মন্তব্য করেন, যা জোটকে আরও দুর্বল করে তোলে।

আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিতব্য কোপেনহেগেন ডেমোক্রেসি সামিটের আগে এই জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।