নিউইয়র্কে ‘এপস্টিন ফাইলসের’ অভিনব প্রদর্শনী

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের যাবতীয় কুকীর্তির অবিস্মরণীয় দলিলের নাম ‘এপস্টিন ফাইলস’

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর যৌথ উদ্যোগে এসব তথ্য-প্রমাণ জোগাড় হয়। 

ফাইলে মোট পৃষ্ঠার সংখ্যা ৩৫ লাখ। নথির এই সুবিশাল সংগ্রহ নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির শহর নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে এক অভিনব প্রদর্শনী। 

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

ইনস্টিটিউট অব প্রাইমারি ফ্যাক্টস নামের একটি ওয়াশিংটন ভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা এই সাময়িক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। 

প্রদর্শনীতে শুধু এপস্টিন ফাইলসের প্রিন্টআউট রাখা হয়েছে। ট্রাম্প-এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়েও একটি আলাদা আয়োজন রাখা হয়েছে সেখানে। 

প্রদর্শনীতে ‘এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি’ আইনের আওতায় প্রকাশ পাওয়া তিন হাজার ৪৩৭ অধ্যায়ে বিভক্ত ফাইলগুলো সুসংহত উপায়ে শেলফে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। 

ম্যানহাটনের একটি লাইব্রেরিতে এর আয়োজন। মজা করে নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টিন স্মারক পাঠকেন্দ্র’।  

সংগঠনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘যখন আপনার সামনে প্রিন্ট ও বাধাই করে সত্যকে উপস্থাপন করা হয়, তখন তা উপেক্ষা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।’

অনলাইনে নিবন্ধন করে ম্যানহাটনের ট্রিবেকায় অবস্থিত লাইব্রেরিতে রাখা ফাইলগুলো পরিদর্শন করা যাবে। 

সবাই ফাইলগুলো ‘চোখের দেখা’ দেখতে পেলেও হাতে নিয়ে পড়তে পারবেন না। এর পেছনে দায়ী মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ। 

কিছু ভুক্তভোগীর নাম ফাইল থেকে বাদ দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিভাগটি। যার ফলে, জনসাধারণের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে ফাইলগুলোকে। তবে সাংবাদিক বা আইনজীবীদের মতো কিছু সুনির্দিষ্ট পেশার মানুষ এগুলো হাতে নিয়ে পড়তে পারবেন। 

এই সাময়িক প্রদর্শনীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টিনের সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। 

কয়েক দশকের বন্ধুত্বের পর ২০০৪ সালে একটি ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প-এপস্টিনের সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দেয়। এরপর থেকে দুই সাবেক বন্ধুর মুখ-দেখাদেখি বন্ধ ছিল। 

এপস্টিন ফাইলসে অসংখ্যবার ট্রাম্পের নাম আসলেও তিনি কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

এই প্রদর্শনীর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের অন্যতম ডেভিড গ্যারেট। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা একটি গণতন্ত্রপন্থি সংগঠন। আমাদের লক্ষ্য এ ধরনের অস্থায়ী যাদুঘর এবং ব্যস্ত জীবনের অন্যান্য অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান দুর্নীতির মাত্রা ও গণতন্ত্রের প্রতি হুমকিগুলো সম্পর্কে জনমানুষকে সতর্ক করা।’

গারেট মত দেন, ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে এসব নথি প্রকাশে গড়িমসি করেছে, সেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের প্রতিবাদে ফেটে পড়া উচিৎ। 

‘বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ধামাচাপা দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন’, দাবি করেন তিনি।  

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং এ বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরির জন্যই এই প্রদর্শনীর আয়োজন—দাবি করেন গ্যারেট। 

২১ মে পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য এই প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।