এপস্টেইন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত বিল ও হিলারি ক্লিনটন

By স্টার অনলাইন ডেস্ক

প্রয়াত যৌন নিপীড়ক ও অভিযুক্ত অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মতি জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

সাবেক প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানান, তারা মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের (প্রতিনিধি পরিষদ) একটি তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেবেন।

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নতুন নথিপত্র প্রকাশের পর তা বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলেছে। এসব নথিতে উঠে এসেছে প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তির নাম।

তাদের মধ্যে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ধনকুবের ইলন মাস্ক—এমনকি মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও। তাদের অনেকের নাম আগে প্রকাশিত নথিতেও ছিল।

trump_epstein_afp.jpg
এপস্টেইন ফাইলে রিলিজ পাওয়া ছবি। ছবিতে ট্রাম্পকে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা যায়, যা দুইজনের বন্ধুত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ফাইল ছবি: এএফপি

এপস্টেইন-সংক্রান্ত নতুন নথিগুলো গত শুক্রবার প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। নথিতে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, এক লাখ ৮০ হাজার ছবি ও দুই হাজার ভিডিও রয়েছে।

এর আগে গত নভেম্বরে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের জন্য বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ। চাপের মুখে ট্রাম্পও এসব নথি প্রকাশের আহ্বান জানান।

এর আগে ক্লিনটন দম্পতি ওই তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হতে অস্বীকার করেন। যার ফলে কমিটির পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবে কংগ্রেসে ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অতীতে কীভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কংগ্রেসের ওই কমিটি। 

ক্লিনটনের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, 'সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী (হিলারি) সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তারা এমন একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন, যা সবার অনুকরণ করা উচিৎ।'

হাউস রুলস কমিটি এর আগে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে 'কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার সমন' উপেক্ষা করার অভিযোগ আনে। এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের যোগসূত্রের বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য তাদেরকে ডাকা হলেও তারা আসেননি।

কারাগারে আটক অবস্থায় ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন। 

ওয়াশিংটনজুড়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলছে সদ্য প্রকাশিত এপস্টেইন নথি।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যরা বলছেন, এই তদন্তকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের হেনস্থা করা হচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের 'বন্ধু' ও সহযোগী ট্রাম্পকে একবারও সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়নি। বরং তিনি এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার দেখভাল করছেন।

clinton_and_epstein.jpg
জেফরি এপস্টেইন ও বিল ক্লিনটন। ছবি: এপস্টেইন ফাইলস/মার্কিন বিচার বিভাগ

এর আগে বেশ কয়েক মাস ধরে এপস্টেইনের তদন্ত সংক্রান্ত নথি প্রকাশে বাধা দেন ট্রাম্প।

বেশ কয়েক বছর সারা বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও তারকাদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল এপস্টেইনের। ট্রাম্পও ব্যতিক্রম নন।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভাজন

এখন পর্যন্ত এপস্টেইনের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে ক্লিনটন দম্পতি বা ট্রাম্পকে জড়িয়ে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

কমিটির সমন উপেক্ষার কারণ হিসেবে ক্লিনটন দম্পতি যুক্তি দেন, এর পেছনে কোনো স্পষ্ট আইনি চাহিদা উল্লেখ করা হয়নি।

অপরদিকে, রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের দাবি, ডেমোক্র্যাট নেতা বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে এপস্টেইনের অতীত সম্পর্ক খতিয়ে দেখা খুবই জরুরি। কারণ ২০০০ সালের দিকে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেট বিমান ব্যবহার করার প্রমাণ আছে ক্লিনটনের বিরুদ্ধে। যার ফলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ।

কিন্তু কমিটির সামনে উপস্থিত না হয়ে বিল ও হিলারি ক্লিনটন জেফরি এপস্টেইন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের বিষয়ে তারা যা জানেন, তা লিখিত বক্তব্য হিসেবে জমা দেন।

গিলেইন বর্তমানে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের মানবিক কাজে এপস্টেইনের জেট ব্যবহার করার বিষয়টি স্বীকার করে নেন বিল ক্লিনটন। তবে তিনি কস্মিনকালেও 'এপস্টেইন আইল্যান্ড' নামে পরিচিত দ্বীপে যাননি বলে দাবি করেন।

অপরদিকে, হিলারি দাবি করেছেন তার সঙ্গে এপস্টেইনের কখনো কোনো 'অর্থপূর্ণ' যোগাযোগ হয়নি। আর জেটে ভ্রমণ করা বা দ্বীপে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।

clinton_ghislane_and_epstein.jpg
বিল ক্লিনটনের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এপস্টেইন ও গিলেইন। ছবি: সংগৃহীত

ক্লিনটন দম্পতি সাক্ষ্য দিতে রাজি হওয়ায় আপাতত নিন্দা প্রস্তাবে ভোট স্থগিত করেছে হাউস রুলস কমিটি।

ওই ভোট আয়োজিত হলে তা কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করতো বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা মত দেন, এপস্টেইনের অপরাধের তদন্ত থেকে কাউকে রেহাই দেওয়া উচিৎ নয়। তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন।

তবে কয়েকজন নেতা আশংকা প্রকাশ করেন, নিজ দলে বিভাজন দেখা দিলে এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের অতীত সম্পর্কের মতো চাঞ্চল্যকর বিষয়গুলো থেকে সবার মনোযোগ সরে যাবে।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে গত সপ্তাহে প্রকাশ করা নথিগুলোই চূড়ান্ত। এরপর আর এপস্টেইন সংক্রান্ত নতুন কোনো নথি প্রকাশের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।