পাকিস্তানে ৫ ক্রুসহ উড়োজাহাজ নিখোঁজ
পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূলে একটি বেসরকারি মালবাহী উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের মতে, ওই উড়োজাহাজটি পাঁচ ক্রুসহ আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে।
আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
বোয়িং উড়োজাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচি অভিমুখে যাত্রা করেছিল।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাডারে উড়োজাহাজটিকে দ্রুত উচ্চতা হারাতে দেখা যায়।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) এক্সে পোস্ট করে জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি তাদের ‘দিকনির্ণয় যন্ত্রে কারিগরি সমস্যার’ অভিযোগ করে।
ওই ফ্লাইটটি কে২ এয়ারওয়েজ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক’ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়, শারজাহ থেকে করাচিগামী উড়োজাহাজটি আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয় এবং এটি বর্তমানে নিখোঁজ আছে।
তিনি নিখোঁজ পাঁচ ক্রুর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে খোঁজ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার এবং এই উদ্যোগে সব ধরনের প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে জানেন এমন এক সূত্র এএফপিকে জানান, নৌবাহিনীর জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ—উভয়ই নিখোঁজ উড়োজাহাজটি শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে সামরিক বিমান।
করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে রাডারে উড়োজাহাজটিকে দ্রুত উচ্চতা হারাতে দেখা যায়।
কে২ এয়ারওয়েজ পাকিস্তানের একটি বেসরকারি মালবাহী উড়োজাহাজ সংস্থা।
এটি অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি—উভয় ক্ষেত্রেই পূর্বনির্ধারিত ও চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে।
কে২ এয়ারওয়েজের ওই বোয়িং ৭৩৭-৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটি ১৯৯৯ সালে তৈরি করা হয়। এটি এর আগে অ্যারোফ্লট ও গারুদা ইন্দোনেশিয়ার বহরে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।
২০১২ সালে এটিকে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়।
গত কয়েক দশকে পাকিস্তানের উড্ডয়ন খাত অসংখ্য প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় জর্জরিত হয়েছে। করাচিসহ বড় বড় বেশ কয়েকটি শহরের কাছে এ ধরনের দুর্ঘটনার নজির আছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও লাইসেন্সিংয়ের সমস্যার কারণে পাকিস্তানের জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চার বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে ২০২৪ সালে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
