নেপালের বন্যায় ৭ মরদেহ ভেসে এলো ভারতে

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নেপাল থেকে প্রবাহিত নদী থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, নেপালে হিমবাহধস থেকে সৃষ্টি হওয়া আকস্মিক বন্যায় ওই সাত ব্যক্তি মারা গেছেন।

আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির হিন্দি ভাষার ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়।

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলার নদীতে মরদেহগুলো পাওয়া যায়।

এই রাজ্যের সীমান্ত নেপালের বন্যাকবলিত দক্ষিণাঞ্চলীয় চিতওয়ান অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত।

মহারাজগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব সিং সোগারওয়াল এএফপিকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার জেলায় চারটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নেপালে আকস্মিক বন্যার পর তারা সেখান থেকে ভেসে ভারতে চলে এসেছেন বলে আমরা মনে করছি।’

সীমান্ত থেকে ভাটির দিকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে কুশীনগর জেলায় আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি হিন্দি জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন পুরুষ। তবে এখনো তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

মহারাজগঞ্জ জেলার প্রশাসনিক উপবিভাগ নিচলাউল তহসিলের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধার্থ গুপ্ত বিবিসি হিন্দিকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে গণ্ডক নদী থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ। মরদেহগুলো উজান থেকে, অর্থাৎ নেপাল থেকে ভেসে এসেছে—এমন জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘মরদেহগুলোর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। নেপালের প্রশাসনের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সংশ্লিষ্ট দলগুলো নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি করছে।’ যোগ করেন তিনি।

কুশীনগরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ ভার্মা বিবিসি হিন্দিকে বলেন, ‘কুশীনগরে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। তিনটি মরদেহই ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।’

নেপালে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার পর গণ্ডক নদীতে প্রবল স্রোত বইছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনে আরও মরদেহ ভেসে ভারতে আসতে পারে।

মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর প্রশাসন নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১ হাজার ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতে উদ্ধার হওয়া সাতজনের মরদেহ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।