তিব্বতের বাঁধে ভাঙন, নেপাল সীমান্তে আবারও বন্যা-ভূমিধসের আশঙ্কা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

নেপালে প্রাণঘাতী বন্যার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে কাজ করা উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তিব্বতের একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছে চীন।

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

এতে নতুন করে প্রবল বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নেপালি পুলিশ সব উদ্ধারকর্মীকে ‘অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে’ বলেছে। তাদের ভাষ্য, ‘তিব্বতের অংশে আবার একটি পানির বাঁধ ভেঙে গেছে’—এমন তথ্য তারা পেয়েছে।

আগে তিব্বতের অংশেও উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। 

গত বুধবারের পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য অঞ্চলে যে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছিল, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে সেটির পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। 

যেকোনো মুহূর্তে এই হ্রদের বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন করে প্রাণঘাতী কাদা-পাথরের ধস কিংবা তীব্র পানির তোড় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি আজ শুক্রবার সকালে জানিয়েছে, নতুন তৈরি হওয়া এই হ্রদটি উপচে অনবরত পানি পড়তে শুরু করেছে। 

ফলে পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে যে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জিরং স্থলবন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না।

উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে থাকা সিসিটিভির এক প্রতিবেদক বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের এখানে থেমে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সামনের সারির দলগুলোর কাছ থেকে আমরা মাত্রই একটি জরুরি নির্দেশনা পেয়েছি। সেখানে সব উদ্ধারকারী দলকে জিরং বন্দরের দিকে আর না এগোতে বলা হয়েছে।’

‘তাই সব উদ্ধারকারী দলকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।’ আগে ওই এলাকায় পৌঁছানো জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে ‘এক কিলোমিটার পেছনে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’ বলেও জানিয়েছে তারা।

উদ্ধারকারী দলের সিংহভাগ সদস্যই এখন জিরং শহরের লাওজিয়াং গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন। এই গ্রামটি চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৩৫ মাইল (প্রায় ৭ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সভাপতিত্বে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নেতারা আশপাশের এলাকায় ‘হিমবাহ, বরফের হ্রদ ও ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগের ঝুঁকি’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তারা সতর্ক করে বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান বড় ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।’

বুধবার সুনামির মতো পানি ও কাদার বিশাল ঢল নেমে আসার পর জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত ৪৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

ওই ঢলে নেপাল ও তিব্বতে বাড়িঘর চাপা পড়ে, সেতু ভেঙে যায় এবং যানবাহন ভেসে যায়।

নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ।

তাদের মধ্যে হিমালয়ে ট্রেকিংয়ে যাওয়া পর্যটক এবং তিব্বতের পবিত্র তুষারাবৃত কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়া বহু হিন্দু ধর্মাবলম্বী রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলেছে, ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর নেপালে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই দুর্যোগের কারণ হিমবাহধস। এর ফলে বরফ ও ধ্বংসস্তূপের বিশাল স্রোত সৃষ্টি হয়।

বরফ ও কাদার এই বিশাল ঢলের ফলে বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ পানি জমে বিশাল জলাধার বা কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার তিব্বতে এর মধ্যে একটি কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে ওই এলাকায় নিখোঁজদের খুঁজতে থাকা জরুরি উদ্ধারকর্মীদের জন্য নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে।