বড়দিনে ‘যুদ্ধের ক্ষত’ মুছে দেওয়ার আহ্বান জানালেন পোপ লিও

By স্টার অনলাইন ডেস্ক

পোপ হিসেবে লিও চতুর্দশ তার প্রথম বড়দিনের বার্তায় যুদ্ধের 'অর্থহীনতা' এবং এর রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপ বা 'ক্ষতচিহ্নের' তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার ইতালির ভ্যাটিকানে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় বড়দিনের প্রার্থনায় পোপ লিও গাজা ও ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। 

বলেন, 'বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাত মানবতার জন্য গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।'

গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন পোপ লিও। তিনি বলেন, 'কীভাবে আমরা গাজার তাঁবুগুলোর কথা ভুলে থাকতে পারি, যেগুলো সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি, ঝড় ও শীতের মুখে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।'

তিনি আরও বলেন, 'অসংখ্য যুদ্ধের ক্ষতচিহ্নে জর্জরিত নিরস্ত্র মানুষের শরীর। যুদ্ধ শেষ হলেও থেকে যায় ধ্বংসস্তূপ আর খোলা ক্ষত।'

সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও শীতের তীব্রতায় গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের কারণে প্রায় সব বাসিন্দাই বাস্তুচ্যুত। জাতিসংঘের তথ্য মতে, গাজায় বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দরকার। 

ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গেও কথা বলেন পোপ। 

প্রায় চার বছরের দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে সাহসী, আন্তরিক ও সম্মানজনক সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

২০২৫ সালকে সংঘাতপূর্ণ বছর উল্লেখ করলেও গাজা ও ইউক্রেনে শান্তির আশার আলোও জ্বলে উঠেছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববাসীকে শান্তি ও মানবিকতার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ৭০ বছর বয়সী এই পোপ।

এর আগে বড়দিনের আলোচনায় 'বিকৃত অর্থনীতির' সমালোচনা করেন পোপ লিও। বলেন, 'এই অর্থনীতি মানুষকে পণ্যে পরিণত করেছে।' 

সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার সামনে বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো ভক্ত জড়ো হন। আয়োজকদের মতে, প্রায় ৫ হাজার মানুষ বাইরে উপস্থিত ছিলেন, আর ভেতরে চার্চের ঊর্ধ্বতনরা, কূটনীতিকসহ মোট প্রায় ৬ হাজার মানুষ প্রার্থনায় অংশ নেন।

গত ২১ এপ্রিল পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর তার উত্তরসুরি হন মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশ। বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়াত পূর্বসূরির তুলনায় তিনি অনেক বেশি সংযত ও পরিমিত আচরণের। 
বড়দিনের প্রার্থনায় কিছু পরিবর্তনও এনেছেন নতুন পোপ। সাধারণত স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হতো বড়দিনের প্রার্থনা, তবে পোপ লিও প্রার্থনাটি অপেক্ষাকৃত দেরিতে শুরু করেন। 

প্রয়াত পোপ জন পল দ্বিতীয়ের (১৯৭৮–২০০৫) সময়কার একটি ঐতিহ্যও পুনরুজ্জীবিত করেছেন তিনি।