কাবুলের হোটেলে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৭
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হোটেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আজ সোমবার কাবুলের শেহের-ই-নাও এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে ইতালিভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইমার্জেন্সি। কাবুলে তারা একটি হাসপাতাল পরিচালনা করে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, 'আজ দুপুরে বিস্ফোরণের পর ২০ জনকে ইমার্জেন্সির সার্জিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়।'
ইমার্জেন্সির কান্ট্রি ডিরেক্টর দেজান পানিক বিবৃতিতে বলেন, 'আহতদের মধ্যে ৪ জন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।'
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফুলের দোকান মালিক এএফপিকে জানান, দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান যে সড়কে, সেটির অন্য প্রান্তে বিস্ফোরণটি ঘটে।
জনবহুল এলাকাটিতে বিস্ফোরণের 'জোরালো শব্দ' শুনতে পান তিনি। বলেন, 'সবাই নিজের প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আমি অন্তত ৫ জন আহত ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছি।'
শেহের-ই-নাও কাবুলের অন্যতম নিরাপদ এলাকা। এখানে বিদেশি দূতাবাস, বিশালাকার ভবন ও শপিং কমপ্লেক্স রয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি রয়টার্সকে বলেন, 'প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন।'
বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
একটি রেস্তোরাঁর এক কর্মীর বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বিস্ফোরণে দুই চীনা নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
এছাড়া একজন আফগান নিরাপত্তারক্ষী নিহত এবং রেস্তোরাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে কাবুলসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমেছে।
তবে দেশটিতে এখনো আইএসআইএলের (আইএস) সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে। তারা প্রায়ই হামলা চালানোর দায় স্বীকার করে।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানে একই সপ্তাহে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলাগুলোয় প্রাণ হারান ৬ জন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আরেকটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় কাবুলে নিজের দপ্তরে প্রাণ হারান তালেবান সরকারের শরণার্থী মন্ত্রী খলিল উর-রহমান হাক্কানি।